নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির দুটি মডেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন বাম জমানায় জমি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহিদ পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই শিবির দুটি চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। জমি আন্দোলনে নিহত শহিদ পরিবারের হাত দিয়ে উদ্বোধন হলেও ১৫ জানুয়ারি দুপুরে দুই শিবিরেই আসবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রোগীদের পাশাপাশি শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলবেন তৃণমূলের সেনাপতি।
তৃণমূল সূত্রে খবর, নন্দীগ্রাম-১ শিবিরের উদ্বোধন করবেন তিন শহিদ ভগীরথ মাইতির স্ত্রী সুষমা, শেখ সেলিমের ভাই সানোয়ার ও শেখ রেজাউলের স্ত্রী সায়রা বিবি। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম-২ শিবিরের উদ্বোধন জমি আন্দোলনে বাম সরকারের পুলিশের গুলিতে চার শহিদ রবীন মান্না, শেখ ইয়াসিন, সুরজিৎ খাটুয়া এবং হরেন প্রামাণিকের পরিবারের সদস্যদের হাত দিয়ে হবে।
প্রতিদিন সকাল ন’টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কলকাতার বিখ্যাত হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা রোগীদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাও করবেন। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে থানার পিছনে বাইপাসের পাশে প্রথমটি ও নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে খোদামবাড়ি হাই স্কুলের কাছে মডেল ক্যাম্প দুটিতে মিনি অপারেশন থিয়েটারও থাকছে। প্রতিটি শিবিরে ৩০ জন ডাক্তার ও ৩০ জন নার্সের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসা কর্মীরা যেমন থাকবেন, তেমনই ২০০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম-২ শিবিরের দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ, অন্যদিকে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সেবাশ্রয় ক্যাম্প পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ, শেখ সুফিয়ান এবং জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ শামসুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রাতে শিবিরের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি তদারকির ফাঁকে সুশান্ত জানান, “শুধুমাত্র ডাক্তারের পরামর্শ বা ইউএসজি-এক্স রে-রক্ত পরীক্ষা নয়, বিনামূল্যে সমস্ত ওষুধ-পথ্য রোগীদের মধ্যে বিলি করা হবে। এমনকী, সাতদিন পরে ফলোআপ চেকআপ-রিপোর্ট দেখানোর সুবিধা থাকছে।” সুশান্তর সঙ্গে শিবিরের আয়োজনে রয়েছেন তৃণমূল নেতা সুনীল জানা, রবীন জানা ও মহাদেব বাগরাও। নন্দীগ্রাম-১-এর শিবিরের আয়োজনে ব্যস্ত বাপ্পাদিত্য জানিয়েছেন, “জটিল অসুখের রোগীদের যদি প্রয়োজন পড়ে, তবে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা থাকছে।” দুটি মডেল ক্যাম্পে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ হাজার রোগীর চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা রাখছে তৃণমূল।
