বাবার মৃতদেহ নিয়ে ফিরছিলেন ছেলে। মদ্যপ বাইক বাহিনী ছাড়ল না ওই পরিবারকেও। কেন তাঁদের রাস্তায় শববাহী গাড়ি চলে এসেছে, সেই 'অপরাধে' চড়াও হয় মদ্যপরা। মৃতের পরিবারের সদস্য ও ছেলেকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিকার চেয়ে শেষপর্যন্ত মৃতদেহ নিয়েই সটান থানায় হাজির ছেলে! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে। ঘটনা জানাজানি হতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মছলন্দপুরের বাসিন্দা বছর ৭১ বয়সের অলিপ মিত্র শারীরিক সমস্যার জন্য মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল সোমবার তিনি মারা যান। রাতে হাসপাতাল থেকে শববাহী গাড়িতে মৃতদেহ নিতে এলাকায় ফিরছিল ওই পরিবার। অশোকনগর ৩ নম্বর রেলগেট লাগোয়া যশোর রোডের ওপর ওই ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ, শববাহী গাড়ির পিছনে ওই পরিবারের আরও দুটি গাড়ি ছিল। এদিকে সাত-আটজনের ওই মদ্যপ বাইকবাহিনীও যাচ্ছিল ওই রাস্তা দিয়ে। অশোকনগর রেলগেট পার করে গাড়ির গতি সামান্য বাড়িয়ে দেন শববাহী গাড়ির চালক। অভিযোগ, ওই ঘটনার পরই শববাহী গাড়ির চালককে গালিগালাজ করেন ওই বাইক আরোহীরা। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেন মৃতের ছেলে ও পরিবার। এরপরই ওই বাইকবাহিনী তাঁদের ঘিরে ধরে! মৃতের ছেলে ও অন্যান্যদের যথেচ্ছ মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কেন গাড়ি জোরে চালানো হয়েছে? সেই প্রশ্ন তুলে মারধর করা হয় শববাহী গাড়ির চালকেও! পরে অভিযুক্তরা চম্পট দেয় বলে খবর।
এরপরই মৃতদেহ নিয়ে সোজা অশোকনগর থানায় পৌঁছে যান পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে মৃতদেহ হতবাক হয়েছিলেন কর্মরত পুলিশ কর্মীদের একাংশ। আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের একটি বাইকের নম্বর দেখে রেখেছিলেন। ওই নম্বর দিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মৃতদেহ দাহ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেছে মৃত ব্যক্তির পরিবার। ওই এলাকায় মদ্যপ বাইক বাহিনীর দাপট চলে বলে অভিযোগ।
