রাজা দাস, বালুরঘাট: ১৪ বছরের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সোমবার বালুরঘাট স্টেশন থেকে কমিউনিকেশন সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করল রেল। ২০০৪ সালে বালুরঘাট স্টেশন থেকে ট্রেন পরিষেবা চালু হলেও এতদিন একলাখি-বালুরঘাট রুটে কোনও সিগন্যালিং ব্যবস্থাই ছিল না। ফলে একটি ট্রেন একলাখি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূর বালুরঘাট এসে পুনরায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় কোনও ট্রেন এই পথে আসতে পারত না। সেই সময় থেকেই রেল বিভিন্ন উন্নয়ন কমিটি-সহ জেলার একাধিক সংগঠন এই রুটে সিগন্যালিং এর দাবি জানাতে থাকে।
[আরও ৫৫০ শরীরে ভাগাড়ের জীবাণুর হদিশ, আতঙ্কে প্রসূতিরা]
২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব একলাখি-বালুরঘাট রেল স্টেশনের শুভ উদ্ধোধন করেন। পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সেই সময়ই কলকাতার সঙ্গে রেলপথে যোগাযোগ শুরু হয়। এর পর ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই মুহূর্তে ৫-৬টি ট্রেন যাতায়াত করে বালুরঘাট একলাখি রুটে। রেল আসার পর কেটে গেছে প্রায় ১৪ বছর। স্বয়ংক্রীয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা না থাকায় বালুরঘাট থেকে এনজেপি ডিএমইউ ট্রেন ও বালুরঘাট-কাটিহার দু’টি ট্রেন বালুরঘাট স্টেশন থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে বুনিয়াদপুর স্টেশন থেকে চালানো হয়। এই ব্যবস্থা চালু না থাকাতেই এই ট্রেনও অনিয়মিত যাতায়াত করে। দীর্ঘ আন্দোলনের পরে প্রায় দুবছর আগে সিগন্যালিং এর কাজ শুরু হয়েছিল। প্রথম দফায় বুনিয়াদপুর স্টেশনে তা চালু হয়েছিল। ফলে হাওড়া-বালুরঘাট দ্বি-সপ্তাহিক এক্সপ্রেসকে বুনিয়াদপুরে দাঁড় করিয়ে গৌড় লিংক এক্সপ্রেসকে অতিক্রম করানো হত।
সোমবার উত্তর পূর্ব রেলের সিগন্যালিং চিফ ইঞ্জিনিয়ার (কনস্ট্রাকশন) যোগেন্দ্র কাটজু বালুরঘাট স্টেশনে এসে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিগন্যালিং চালুর ঘোষণা করেন। সিগন্যালিং-র কাজের জন্য সোমবার গৌড় লিংক এক্সপ্রেস ও বালুরঘাট হাওড়া তেভাগা এক্সপ্রেস মালদা থেকে ছাড়বে। এদিন বেলা ১১ টার বালুরঘাট এনজেপি ট্রেনকে বাতিল করা হয়েছে। যদিও সকালে তেভাগা এক্সপ্রেস বালুরঘাট স্টেশন থেকেই ছেড়েছে এদিন। মঙ্গলবার থেকে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলে জানানো হয়। যোগেন্দ্র কাটজু জানান, বালুরঘাট ও বালুরঘাট স্টেশন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রামপুর বাজার স্টেশনে সিগন্যালিং চালু করা হচ্ছে। একলাখি-বালুরঘাট রুটের গাজোল ও দৌলতপুর এলাকায় সিগন্যালিং চালু হলেও এই রুটের সিগন্যালিং এর কাজ শেষ হবে। যদিও তা চালুর ফলে বাড়তি আরও ১০ জোড়া ট্রেন চালু করা যাবে। দুটো সিগন্যালিং ব্যবস্থা রয়েছে এক সঙ্গে। একটাতে সমস্যা দেখা দিলে অন্যটি সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করবে। এমনকি কোথাও কোন সমস্যা দেখা দিলে সিগন্যাল ব্যবস্থায় সংকেত দিতে থাকবে।
[হাওড়া স্টেশন থেকে সরল ঐতিহ্যবাহী বড় ঘড়ি, কেন জানেন?]
The post ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, কমিউনিকেশন সিগন্যালিং সিস্টেম চালু বালুরঘাট স্টেশনে appeared first on Sangbad Pratidin.
