জয়দেব মেলায় অন্য ভূমিকায় অনুব্রত মণ্ডল। হাতে একতারা নিয়ে মাতলেন বাউল ফকিরদের সঙ্গেই। উদ্বোধনী মঞ্চেই বাউলদের সঙ্গে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকসাইটে এই নেতাকে। হাসিমুখে দেখা গেল কেষ্ট মণ্ডলকে।
একদিকে গীতগোবিন্দম্-এর শ্লোক “স্মরগরল খণ্ডনং, মম শিরসি মণ্ডনং দেহি পদপল্লবমুদারং”এর ধ্বনি। অন্যদিকে বাউলের একতারার সুর। এই আবহেই মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জয়দেব-কেন্দুলি মেলার। রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, জেলাশাসক ধবল জৈন, বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং-সহ প্রশাসনের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বুধবার ভোর থেকেই চিরাচরিত রীতি মেনে অজয় নদের তীরে পুণ্যস্নানে অংশ নেবেন লক্ষাধিক পুণ্যার্থী। স্নানের পর রাধাবিনোদের মন্দিরে পুজো দেওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হবে মেলার মূল ধর্মীয় পর্ব। মেলা উপলক্ষে হাজার হাজার বাউল ও ফকির সমবেত হয়েছেন জয়দেব-কেন্দুলিতে। তাঁরা মেলা প্রাঙ্গণে স্থায়ী ও অস্থায়ী আখড়ায় স্থান নিয়েছেন। যেখানে কীর্তন ও বাউল-ফকিরি গানের আসরে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমগ্র এলাকা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলা এলাকায় প্রায় ৩ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। মন্দির ও মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমেও সার্বক্ষণ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ইভটিজিং ও ছিনতাই রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশ, মহিলা পুলিশ এবং অ্যান্টি-ক্রাইম টিম টহল দিচ্ছে। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে থাকছে উইনার্স টিম। মেলায় আগত ভক্তদের সহায়তার জন্য পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্নানের ঘাটগুলিতেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক বিশেষ দল। মেলা পরিচালনায় পরিকাঠামোগত ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট পার্কিং জোন এবং ড্রপগেট স্থাপন করা হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে ফায়ার ফাইটিং টিম। প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত পুণ্যার্থীদের জন্য টোটো পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে মেলায় এক লক্ষ কাপড়ের ব্যাগ বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “এই মেলা মূলত বাউল-ফকিরদের মেলা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। মনের টানে মানুষ এখানে আসে। প্রশাসন খুব সুন্দরভাবে আয়োজন করেছে। ভক্তদের কোনও অসুবিধা হবে না।” জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং জানান, “পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার পুলিশের পাশাপাশি বাইরের পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, সে দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।”
