shono
Advertisement

Breaking News

Beldanga Violence

বেলডাঙার নিহত পরিযায়ী আলাউদ্দিনের পরিবারের পাশে রাজ্য, চাকরি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস

আশ্বাস পাওয়ায় ৭ ঘণ্টা পর বেলডাঙায় গড়াল ট্রেনের চাকা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কেও উঠল অবরোধ।
Published By: Sayani SenPosted: 02:53 PM Jan 16, 2026Updated: 03:40 PM Jan 16, 2026

বিজেপিশাসিত ঝাড়খণ্ডে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক 'খুনে' ফুঁসছে বেলডাঙা (Beldanga Violence)। শান্তিবজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নিহতের পরিবারের পাশে রাজ্য। মৃতের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জেলাশাসক নীতিন সিংঘানিয়া। এদিকে, এই আশ্বাস পাওয়ায় ৭ ঘণ্টা পর গড়াল ট্রেনের চাকা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কেও উঠল অবরোধ।

Advertisement

মৃত যুবকের নাম আলাউদ্দিন শেখ। তাঁর বয়স ৩৬ বছর। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা তিনি। বছর পাঁচেক আগে উপার্জনের আশায় ঝাড়খণ্ড যান তিনি। সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। আলাউদ্দিনের জামাইবাবু ওসমান শেখ জানান, গত পরশু শ্যালক তাঁকে ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে ফেরি করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে। সর্বত্র বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আধার কার্ড দেখালেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না। গোটা ঘটনায় তিনি ভয় পাচ্ছেন বলেও জানান। তারপর বৃহস্পতিবার বিকেলেও পরিবারের সদস্যরা আলাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর থেকেই বন্ধ মোবাইল। পরে শুক্রবার সকালে বাড়িতে খবর আসে, মৃত্যু হয়েছে আলাউদ্দিনের। ঘর থেকে মিলেছে গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ।

যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবার-প্রতিবেশীরা। বেলডাঙা স্টেশনে আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। তার ফলে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহক হয়। পাশাপাশি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় কলকাতা-উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচলে সমস্যা হয়। মাঝে দফায় দফায় অবরোধকারীদের সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কথা হয়। তবে তাতেও লাভ কিছুই হয়নি।

দুপুরের দিকে জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের সঙ্গে কথা হয় বিক্ষোভকারীদের। নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের এক সদস্যের সরকারি চাকরি এবং আর্থিক সাহায্যের আশ্বাসে অবস্থান বদল করেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ-অবরোধের পর রেল এবং পথ অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। জেলাশাসক বলেন, "আমাদের আলোচনা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। চাকরির ব্য়বস্থাও করা হচ্ছে। অভিযুক্তের যা উচিত শাস্তি হওয়ার কথা সে ব্যবস্থা করা হবে। আমরা আজকেই কন্ট্রোল রুম খুলছি। লিগাল টাস্কফোর্স তৈরি হচ্ছে। যাতে কারও কোনও সমস্যা হলে যোগাযোগ করতে পারেন।" পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর তদন্তে শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে যাচ্ছেন বাংলার পুলিশ আধিকারিকরা, জানান জেলা পুলিশ সুপার। এদিন নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যান অধীর চৌধুরীও।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement