সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের রাজধর্ম পালন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাঙড়ে এক গ্রামবাসীর মৃত্যুর খবর পেয়েই অভিযুক্ত তৃণমূলনেতা আরাবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের নতুনহাট এলাকায় এদিন নির্দল প্রার্থীদের সমর্থনে মিছিল হয়। হাফিজুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের মাথায় গুলি লাগে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা যান যুবক। মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারেন, অভিযোগের তির আরাবুলের দিকে। সন্ধ্যায় একটি টিভি চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভাঙড়ের খবর পেয়েছি। আরাবুল অভিযুক্ত। চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। আরাবুলকে গ্রেপ্তার করতে বলেছি পুলিশকে। তবে শুনেছি ওখানে মাওবাদীরা ঢুকে পড়েছে।”
[হাতুড়ির ঘায়ে মাথা ফাটল তৃণমূলকর্মীর, অভিযোগের তির বিজেপির]
রাতেই আরাবুলের বাড়িতে পুলিশবাহিনী যায়। রাতে বাড়ির কাছেই কাশীপুর এলাকা থেকে বারুইপুর পুলিশ গ্রেপ্তার করে আরাবুল ইসলামকে। আগেও বহুবার রাজধর্ম পালন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দলেরই প্রাক্তন কাউন্সিলর শম্ভুনাথ কাউয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ওঠায় তিনিই তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন। এখন দোষী সাব্যস্ত কাউকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে আদালত। আরাবুল দোষী কি না তার বিচার করবে আদালত। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠামাত্র তড়িৎ গতিতে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন তা দৃষ্টান্ত। উল্লেখ্য, আগেও এই আরাবুলকেই বিভিন্ন অভিযোগে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল।
পঞ্চায়েত ভোটের দু’দিন আগে মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে তিনি ভাঙড়ে শান্তি ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফেও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ভাঙড়ে জমি, জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সমর্থনে এদিন দুপুরে নির্দল প্রার্থীর তরফে মিছিল হয়। পা মেলান হাজারখানেক গ্রামবাসী। মিছিল নতুনহাটের দিকে এগোতেই চলে হামলা। বোমায় ঘায়েল হন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী। হাফিজুলের মাথায় গুলি লাগে। জখম যুবককে রাজারহাটের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন আগেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।
[ভোটের দিন প্রতিরোধের ডাক দিলীপের, কমিশনের সমালোচনায় রাহুল]
নির্দল প্রার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ভাঙড়। মিছিলে হামলার প্রতিবাদে পালটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় অভিযুক্ত আরাবুল অনুগামীর বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। খামারআইটের রাস্তার উপর আগুন জ্বালিয়ে শুরু হয় অবরোধ। পাওয়ারগ্রিড আন্দোলনের মতোই এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়। এদিনের এই ঘটনার খবর পেয়ে বিরাট পুলিশ বাহিনী যায় এলাকায়। বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহাও যান ভাঙড়ে। শুরু হয় অভিযান।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ জানার পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আরাবুলের গ্রেপ্তারি স্রেফ লোক দেখানো। খুব তাড়াতাড়ি অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যাবে।” সমাজবিরোধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে টুইট করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। এদিনের এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যে যে আইনের শাসন নেই ফের আরও এক বার প্রমাণ হল। এলাকায় গুলি চালানোর ও বোমা ছোড়ার খবর পেয়ে পুলিশকে ফোন করি৷ কিন্তু, মৃত্যু আটকানো গেল না।” রেড স্টার নেতা অলীক চক্রবর্তী বলেন, “দিনের আলোয় নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর আরাবুল বাহিনী গুলি চালায়। মিছিল লক্ষ করে ছোড়া হয় বোমা। এই ঘটনায় ফের আর এক জন ভাঙড়ের মানুষের মৃত্যু হল। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি৷” এমনিতেই, পাওয়ার গ্রিড আন্দোলন নিয়ে ফুঁসছিল ভাঙড়। তারপর এদিনের ঘটনায় যেন আগুনে ঘি দিল। রাতে এলাকায় মশাল মিছিল হয়। শনিবার মৌলালি থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে সংহতি কমিটি।
[‘শ্রীকৃষ্ণ যদি অন্যায় না বলেন, অনুব্রতর দোষ কোথায়’, কেষ্টকে আড়াল মদনের]
The post রক্তাক্ত ভাঙড়, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাতেই গ্রেপ্তার আরাবুল appeared first on Sangbad Pratidin.
