shono
Advertisement
Birbhum

প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের জমিতে তৃণমূলের পার্টি অফিস! বদলের বাংলায় খুলল তালা, হল প্রতীকী ক্লাসও

জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদ পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা ঐ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নুরুল ইসলাম।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:06 PM Jul 27, 2026Updated: 09:06 PM Jul 27, 2026

প্রায় এক দশক আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল হয়ে যাওয়া স্কুলের জমি অবশেষে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নিল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সিউড়ি ২ ব্লকের পুরন্দরপুরে শতবর্ষপ্রাচীন পুরন্দরপুর হাইস্কুলের দাবি করা ওই জমিতে নির্মিত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভবনটির দখল নেয় স্কুল। ভবনের একটি কক্ষে প্রতীকীভাবে নবম শ্রেণির ক্লাসও নেওয়া হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদ পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা ঐ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নুরুল ইসলাম।

Advertisement

স্কুল সূত্রের দাবি, ভবনের ভিতর থেকে কিছু ত্রাণসামগ্রী, একটি আলমারিতে সংরক্ষিত পুরনো স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, কন্যাশ্রী প্রকল্পের নথি এবং দোতলার একটি ঘর থেকে খাট, ড্রেসিং টেবিল, মহিলাদের পোশাক ও প্রসাধনসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

স্কুলের দাবি, ২০১৭ সালে তৎকালীন শাসকদলের প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতির চাপে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা সম্ভব হয়নি। ওই বছরের ৬ নভেম্বর স্কুল পরিচালন সমিতির বৈঠকে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল, পরিস্থিতি অনুকূল হলে ভবিষ্যতে জমি ও ভবন পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৈঠকের কাগজে লেখা হয়, "জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করা সম্ভব নয়। তবে সময় সুযোগ হলে স্কুল ফের নিজেদের জমি ফিরিয়ে নেবে।"

সোমবার সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ভবনের তালা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়। স্কুল সূত্রের দাবি, ভবনের ভিতর থেকে কিছু ত্রাণসামগ্রী, একটি আলমারিতে সংরক্ষিত পুরনো স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, কন্যাশ্রী প্রকল্পের নথি এবং দোতলার একটি ঘর থেকে খাট, ড্রেসিং টেবিল, মহিলাদের পোশাক ও প্রসাধনসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পর দোতলায় প্রতীকী ক্লাসের আয়োজন করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শান্তনু আচার্য বলেন, পরিচালন সমিতির আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল তার নিজস্ব সম্পত্তি ফেরত নিয়েছে। ভবিষ্যতে ভবনটির নামকরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে করার পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষিকা সুপর্ণা বসুর দাবি, প্রায় দু'হাজার পড়ুয়ার স্বার্থে এই অতিরিক্ত ভবন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে নুরুল ইসলামের বক্তব্য, জমিটি বৈধভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে কোনও বিরোধ থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াই উচিত ছিল বলে তাঁর দাবি। এই প্রসঙ্গে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement