shono
Advertisement

Breaking News

TMC

ভাগচাষি থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য! ইলামবাজারে তৃণমূল নেতা রবি মুর্মুকে নিয়ে জোর চর্চা

ভাগচাষি থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্যের অধিপতি! ইলামবাজারে তৃণমূল নেতা রবি মুর্মুকে নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন। রাজ্যে পালাবদলের পর চর্চায় তিনি। বীরভূম জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য রবি মুর্মু।
Published By: Suhrid DasPosted: 02:35 PM May 29, 2026Updated: 05:11 PM May 29, 2026

ভাগচাষি থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্যের অধিপতি! ইলামবাজারে তৃণমূল নেতা রবি মুর্মুকে নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন। রাজ্যে পালাবদলের পর চর্চায় তিনি। বীরভূম জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য রবি মুর্মু। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পত্তির বহর যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা রয়েছে এলাকায়।

Advertisement

ইলামবাজারে বনশুলডাঙা গ্রামে রবি মুর্মুর আদি বাড়ি। জঙ্গলমহল লাগোয়া সেই গ্রামে এখনও বাস করেন তাঁর দাদা ও বৌদি। বাড়ির একাংশ এখনও কাঁচা, কোথাও ভাঙা দেওয়াল, কোথাও টিনের চাল। স্থানীয়দের দাবি, পরিবারের কয়েকজন সদস্য এখনও অন্যের জমিতে ভাগচাষের কাজের সঙ্গেই যুক্ত। খুব সাধারণ জীবনযাপন করত পরিবারটি। মাঠে-ঘাটে কাজ করেই দিন চলত। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করে রবি মুর্মুর জীবনযাত্রা। তিনি গ্রামে আসেন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার গাড়িতে চেপে। শুধু তাই নয়, শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। বাড়িটিতে আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে। 

২০১৪ সালের পর থেকে হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করে রবি মুর্মুর জীবনযাত্রা। তিনি গ্রামে আসেন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার গাড়িতে চেপে। শুধু তাই নয়, শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লিতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, বোলপুর ও ইলামবাজারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তার ধারে বিঘার পর বিঘা জমি কেনা রয়েছে। বনভিলা, শ্রীচন্দ্রপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের নামে জমি ও রিসর্ট রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা লক্ষণ হাঁসদা বলেন, "কয়েক বছর আগেও গ্রামের ছেলে রবি অন্যের জমিতে কাজ করত। এখন ওর গাড়ি-বাড়ি দেখে অবাক হতে হয়।" গ্রামের আর এক বাসিন্দা বাজন টুডু বলেন, "এত সম্পত্তি কীভাবে হল, সেটাই এখন গ্রামের মানুষের বড় প্রশ্ন।" স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কাটমানির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই। একাধিক বেআইনি বালিঘাটের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। 

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কাটমানির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই। একাধিক বেআইনি বালিঘাটের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে।

তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অধিকাংশ সম্পত্তিই নাকি সরাসরি নিজের নামে নয়। পরিচিত ও ঘনিষ্ঠদের নামে সম্পত্তি রাখা রয়েছে বলেই গুঞ্জন রয়েছে এলাকায়। রবি মুর্মুর বৌদি রানি = মুর্মু বলেন, "দীর্ঘদিন গ্রামে আসে না। সম্পত্তির বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।” অন্যদিকে, শান্তিনিকেতনে বাড়ির দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা মমতা মার্ডি বলেন, "অনেকদিন বাড়িতে আসেননি। কবে আসবেন, তাও জানা নেই।”

তবে এই বিষয়ে রবি মুর্মুর প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ইলামবাজারে এখন চায়ের দোকান থেকে বাজার- সর্বত্রই রবি মুর্মুই আলোচিত। ভাগচাষির পরিবারের এক সদস্য কীভাবে কয়েক বছরের মধ্যে কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠলেন? রাজনৈতিক প্রভাব, সরকারি পদ নাকি অন্য কোনও উৎস-উত্তর খুঁজছে এলাকার বাসিন্দারা। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, "এত বিপুল সম্পত্তি কীভাবে তৈরি হল, তা পুলিশ প্রশাসন ও আয়কর দপ্তরের তদন্ত করে দেখা উচিত। বিজেপি সরকার মানুষের সরকার। সব তথ্য সামনে আসবে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement