রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের কিছুদিন পর থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের তৃণমূল কংগ্রেসের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান অভিযোগ করেছিলেন, "বিজেপির তোলাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।" ২০২৯ সালে বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, সেই কথাও বলেছিলেন আখরুজ্জামান! সেই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। এবার আখরুজ্জামানকে তীব্র আক্রমণ করলেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিজেপি বিধায়ক আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছেন। নাম করে তিনি লিখেছেন, "সতর্ক হয়ে যান আখরুজ্জামান সাহেব।" এছাড়াও তৃণমূল বিধায়ককে বিঁধে লেখা হয়েছে, "কলকাতায় তো দেখি... দিনে দশবার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিধানসভার ভেতরে আমাদের মন্ত্রীদের কাছে গিয়ে কাজকর্ম বাগিয়ে নিতে ফুসফুস ফুরোয় না।" কাকে পঞ্চায়েত প্রধান বানানো হবে, সেজন্য ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে! এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
চিত্ত মুখোপাধ্যায় লেখেন, "এগুলো আপনার দলের লোকেরাই চিৎকার করে বলছে। আমাদের খারাপ লাগে।" তৃণমূল জমানায় পুলিশকে প্রভাবিত করে কংগ্রেসের নির্বাচিত সদস্যদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিজেপি বিধায়ক। সিভিক পুলিশদের থানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে 'মানসিক চাপ' দেওয়া হত! তৃণমূল বিধায়কের নির্দেশে এই কাজ চলত! তাঁর কথায়, "একটা একটা করে আপনার দলের দীপ নিভছে।" পোস্টের শেষাংশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রসঙ্গও টানেন তিনি।
বিজেপি বিধায়ক লিখেছেন, "আমাদের নৌকার মাঝি শুভেন্দু অধিকারী। যার নৌকা ডোবে না, অন্যেরটাই ডুবিয়ে দেন।" "বিরোধী সেজে নাটকবাজি না করে সত্যিকারের বিরোধ করুন" বলেও কটাক্ষ করেছেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক। ফেসবুকের এই আক্রমণাত্মক পোস্ট রীতিমতো জেলার রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এই প্রসঙ্গে আখরুজ্জামান বলেন, "ওনার কথার কোনও উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না।" এদিকে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি বিধায়কের সোজাসাপটা বক্তব্য, "আমার যা বলার, স্পষ্ট ফেসবুকে আমার বক্তব্য লিখে দিয়েছি।"
