প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে মহিষাদলে খুন বিজেপি কর্মী! একদিন নিখোঁজ থাকার পর হলদি নদীর ধারে উদ্ধার যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। বিজেপির দাবি, মৃত ব্যক্তি বিজেপি করতেন। তাই তাঁকে খুন করেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। শাসকদলের দাবি, মৃত ব্যক্তি কোনও দল করতেন না। বিজেপি লাশের রাজনীতি করছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়। দেহ উদ্ধার করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
মৃত ব্যক্তির নাম মহাদেব বিশ্বাস। বয়স ৪২ বছর। তিনি বাড়উত্তহিংলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। পেশায় মৎস্যজীবী মহাদেব মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বাড়িতে ফোন রেখে গিয়েছিলেন। যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। আজ, বুধবার বাঁশখনি -জলপাই নির্জন এলাকায় মহাদেবের দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে দেহটি দেখতে পারেন। দেহের পাশে মদের বোতল পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, দেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দাগ রয়েছে গলায়।
ঘটনাস্থল থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাস্থল পাঁচ কিলোমিটার দূরে। বিজেপির দাবি, মহাদেব তাদের কর্মী। হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে তিনি ব্যানার-পোস্টার লাগিয়েছেন। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুন করেছে অভিযোগ তুলে মহিষাদল বিধানসভার বিজেপির কনভেনর বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ভোটের আগে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা আমাদের কর্মীকে খুন করেছে। বিজেপি করতেন বলে তাঁকে খুন করা হয়েছে। মহাদেব নিখোঁজ ছিলেন। আজ, ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।"
মৃত ব্যক্তির মহাদেব বিশ্বাস।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের স্থানীয় বুথ সভাপতি মনোজকুমার পাড়ুই। তিনি বলেন, "মহাদেবের সঙ্গে আমারও পরিচয় ছিল। তিনি কোনও রাজনৈতিক দল করতেন না। তৃণমূল মহাদেবকে খুন করেছে এই অভিযোগ পরিবার করেনি। বিজেপি নেতৃত্ব বারবার এই অভিযোগ করছেন। বিজেপির অভিযোগ মিথ্যা। আমিও চাই ঘটনার তদন্ত হোক।" মহিষাদল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তী বলেন, "আমি বিষয়টি জানি না। বিজেপি লাশের রাজনীতি করছে। ওরা জানে এখানে হারবে। তাই এই মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।"
এ দিকে মহাদেবের মৃত্যু ঘিরে রহস্যঘনিয়েছে। কী করে মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট নয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
