shono
Advertisement

Breaking News

Murshidabad

'ডিপোর্ট', লালগোলার হোল্ডিং সেন্টার থেকে ১৭ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক বিএসএফের!

হোল্ডিং সেন্টারে আটক আরও ১৭ অনুপ্রবেশকারীকে 'ডিপোর্ট' করা হল বাাংলাদেশে। মালদহের পর এবার পটভূমি মুর্শিদাবাদ। শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদের লালগোলার 'হোল্ডিং সেন্টার' থেকে ওই ১৭ জনকে রোশনবাগ বিএসএফ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
Published By: Suhrid DasPosted: 06:54 PM Jun 01, 2026Updated: 06:54 PM Jun 01, 2026

হোল্ডিং সেন্টারে আটক আরও ১৭ অনুপ্রবেশকারীকে 'ডিপোর্ট' করা হল বাাংলাদেশে। মালদহের পর এবার পটভূমি মুর্শিদাবাদ। শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদের লালগোলার 'হোল্ডিং সেন্টার' থেকে ওই ১৭ জনকে রোশনবাগ বিএসএফ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকেই তাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া সেরে ফেলা হয়েছে বলে বিএসএফ সূত্রে জানানো হয়েছে। যদিও কোন সীমান্ত দিয়ে, কীভাবে তাঁদের পুশব্যাক করা হয়েছে, সেই বিষয়ে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে চাননি। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মালদহের ইংলিশবাজারের হোল্ডিং সেন্টার থেকে ৯ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।

Advertisement

লালগোলায় ওই হোল্ডিং সেন্টার চালুর পর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ডিপোর্ট করার ঘটনা ঘটল এই প্রথম। ডিপোর্ট' হওয়া সকলেই পুরুষ ও প্রাপ্তবয়স্ক। আপাতত লালগোলার পদ্মা ভবনে চালু ওই 'হোল্ডিং সেন্টারে' আরও ৯ জন বাংলাদেশি 'বন্দি' রয়েছেন। লালগোলার এই 'হোল্ডিং সেন্টারে' স্থান হয়েছিল ২৬ বাংলাদেশির। তাদের মধ্যে প্রথম দফায় ওই ১৭ জনকে পুশব্যাক করা হল। শনিবার রাতে যাদের ফেরত পাঠানো হল তাদের মধ্যে অন্যতম শহিদুল ইসলাম। গত ২৬ মে গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সুতি থানার পুলিশ মহেন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে। শহিদুল নিজেকে বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে কবুল করেছেন। তাঁর বয়ানে, প্রায় এক বছর আগে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসেন। এরপর সুতি থানার মহেন্দ্রপুর এলাকার তরুণী রেখা বিবিকে বিয়ে করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন।

এই বাড়িই এখন লালগোলার হোল্ডিং সেন্টার। নিজস্ব চিত্র

বাংলাদেশের শিবগঞ্জের কালীপুর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল হয়তো ডিপোর্টের পর আবার তাঁর পুরনো সাকিনেই ফিরে যাবেন। এপারে তাঁর 'বিবি'র ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। ইদের আগে গভীর রাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার পথে পুলিশের জালে ধরা পড়েন সাত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকায়। কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ শেষে ইদের আগে বিদুপুর হয়ে সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ধরে। তারপর থেকে হোল্ডিং সেন্টারের আবাসিক সেই সাতজনও পুশব্যাকের জেরে এখন ওপারে। শনিবার আরও দুই জনকে পাকড়াও করে লালগোলা থানার পুলিশ। লালগোলার মুকিমনগর এলাকা থেকে তাঁদের ধরা হয়। পরে ধৃতদের নিয়ে আসা হয় এই 'হোল্ডিং সেন্টারে'।

এদিকে, জেলায় পরপর ধরপাকড়ে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বাড়ায় লালগোলার পদ্মা ভবনের পাশাপাশি আরও হোল্ডিং সেন্টার তৈরির তৎপরতা শুরু হয়েছে। আবার অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে 'ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট' প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সারতেও তৎপর জেলা প্রশাসন। যদিও জেলার কোনও প্রশাসনিক আধিকারিক 'ডিপোর্ট' সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে এই ডিপোর্ট প্রক্রিয়া নিয়ে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরির বক্তব্য, "বাংলাদেশি ধরার নামে সাধারণ ভারতবাসী, যারা বাংলার মানুষ, তাদের যেন অত্যাচারিত না হতে হয়।" 

পদ্মা ভবনের পাশাপাশি আরও হোল্ডিং সেন্টার তৈরির তৎপরতা শুরু হয়েছে। আবার অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে 'ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট' প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সারতেও তৎপর জেলা প্রশাসন। যদিও জেলার কোনও প্রশাসনিক আধিকারিক 'ডিপোর্ট' সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, "ভোটার লিস্টের ডিলিট আর নাগরিকত্ব এক জিনিস নয় আদালত বলে দিয়েছে। এই নিয়ে যাতে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায় সেই বিষয়টিও প্রশাসনকে দেখতে হবে।" বহরমপুরে বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে যে এত সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছে তা আজ প্রমাণিত। অবৈধ বাংলাদেশিরা আমাদের হক কেড়ে নিচ্ছিল।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement