shono
Advertisement

Breaking News

LPG Crisis

গ্যাসের আকালে জেরবার বাংলা! ব্যবসা শিকেয়, বন্ধ হোম ডেলিভারিও

সব থেকে সমস্যায় পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিকরা, যারা কিনা হোম ডেলিভারির উপরই ভরসা করে জীবন কাটান। রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন তাঁরা। যদি বন্ধ হয়ে যায় খাবার। তাহলে পেটে অন্ন জোগাবেন কী করে!
Published By: Subhankar PatraPosted: 12:55 PM Mar 13, 2026Updated: 02:09 PM Mar 13, 2026

নিজেদের নতুন হোম ডেলিভারির খদ্দেরের আশায় মাসছয়েক আগে নম্বর সমাজমাধ্যমের ফোন বিভিন্ন গ্রুপে দিয়েছিলেন উত্তরপাড়ার বাসিন্দা চঞ্চল সামন্ত। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে খোলা তাঁর ব্যবসা চলছিল ভালোই। কিন্তু গত কয়েক দিনে গ্যাসের হাহাকার (LPG Crisis) যেন বদলে দিয়েছে গোটা চিত্রটাই!

Advertisement

দিনে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন হোম ডেলিভারি খাওয়ার জন্য ফোন করছেন। কারও পরিবারে চারজন, কারও বা তিন। "কিন্তু খাওয়াব কী করে, আমার রান্নাঘরেই তো গ্যাস নেই। উলটে যে ১৫-১৬টা পরিবারে আমরা খাবার সাপ্লাই দিতাম সেগুলো বন্ধ হওয়ার জোগাড়। তার মধ্যে বয়স্ক লোকও আছেন। ইন্ডাকশন দিয়ে কয়েকটা বাড়ির খাবার চালাচ্ছি। বাকি হোম ডেলিভারি বন্ধ করে রেখেছি। আবার সব স্বাভাবিক হলে খুলব।"

শুধু চঞ্চলবাবু নন, এই এক অবস্থা হোম ডেলিভারির ব্যবসা চালানো প্রত্যেকের। গ্যাস যে নেই। বেশি দামেও মিলছে না। রান্না হবে কোথা থেকে। খুব সমস্যায় তাঁরা। আর যাঁরা তাঁদের থেকে খাবার নিয়ে পেট ভরান, তাঁরাও। যার মধ্যে বেশিরভাগই প্রবীণ।

অনেকে আবার দেশজুড়ে গ্যাস সংকটে নিজের ঘরের গ্যাসটুকু বাঁচিয়ে রাখতে অনেকেই এখন শরণাপন্ন হয়েছেন হোম ডেলিভারি সার্ভিসের। দুপুরের ভাত থেকে রাতের রুটি, অনেকেই চাইছেন পুরো খাবার বিষয়টাই হোম সার্ভিসের হাতে ছেড়ে দিতে। যাতে ঘরের গ্যাসটুকু সাশ্রয় হয়।

মফস্বলের যে কোনও ছোট শহরেও খুঁজলে দেখা যাবে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন বেশ ভালোভাবেই এই ব্যবসা চালাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় ছোটভাবে তো বহু মানুষই আছেন, যারা হোম সার্ভিসের খাবার পৌঁছন এখন। এখন সেই সব জায়গাতেই মানুষের ঘনঘন ফোন।

নিউ বারাকপুর অঞ্চলের এক গৃহবধূ বলেন, ""রাতেরটা না হোক, দুপুরের খাবারটা দিলেই হবে। যাঁরা অফিসে বেরনোর, তাঁরা বাইরে খেয়ে নেবেন। রাতে না হয় বাইরের কোনও দোকান থেকে রুটি-সবজি কিনে নেওয়া যাবে। কিন্তু তাও তো কেউ দিতে রাজি হচ্ছে না।" অগত্যা সমাজমাধ্যমেই নতুন কোনও হোম ডেলিভারির সন্ধান ও নম্বর চেয়ে পোস্ট করেছেন ওই এলাকারই এক গৃহবধূ।

তবে সব থেকে সমস্যায় পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিকরা, যারা কিনা হোম ডেলিভারির উপরই ভরসা করে জীবন কাটান। রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন তাঁরা। যদি বন্ধ হয়ে যায় খাবার। তাহলে পেটে অন্ন জোগাবেন কী করে! ঘরেও তো তেমন পরিকাঠামো নেই রান্নাবান্না করার! একা মানুষ।

আর যাঁরা এই হোম ডেলিভারি চালান, তারা কী বলছেন? তাঁরা বলছেন, নতুন করে কোনও খদ্দেরের থেকে তাঁরা অর্ডার নিচ্ছেন না। যাঁরা তাঁদের কাছে নিয়মিত খাবার নেন ইন্ডাকশন হোক বা অন্য কোনওভাবে দু-তিনটি পদ রান্না করে দুপুরের ডাল, ভাত আর রাতের রুটি, সবজিটা তাঁরা চালু রেখে যেতে চাইছেন। বাকি ফোন এলে তাঁরা জানিয়ে দিচ্ছেন হোম ডেলিভারি দেওয়া হবে না, আপাতত বন্ধ আছে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement