নন্দন দত্ত, সিউড়ি: নাচতে না জানলে উঠোনের দোষ দেওয়া চলবে না। দলের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। তিন জেলার সাংগঠনিক বৈঠকে এমনই নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সভায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী হয়েছে ভুলে যান। ফের মানুষের দরবারে যান। বিজেপিকে ভয় পাবেন না। আমরা বেজি। সাপ নই। ভোট এলে দু’একটা সাপ ফণা তুলতে পারে। ভয় পাবেন না। আমরা বেজি, আমরাই সাপকে খেয়ে ফেলতে পারি।”
[পুরুলিয়ায় বিজেপি কর্মী খুনে প্রথম গ্রেপ্তার সিআইডির]
লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রতি এলাকার বিধায়কদের দলে রেখে পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করা হল। একইসঙ্গে বদল করা হল খয়রাশোল ব্লকের সভাপতিকে। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল দীপক ঘোষকে। এদিন দুটি সাংগঠনিক পরিবর্তন হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি বিকাশ রায়চৌধুরির পরিবর্তে নুরুল ইসলামকে আনা হয়। অন্যদিকে সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি নুরুল ইসলামকে সরিয়ে কাজি ফজরুদ্দিনকে করা হয়।
বীরভূমের ১১টি বিধানসভা, বর্ধমানের আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভাকে নিয়ে রবিবার সিউড়িতে বৈঠক হয়। জেলা তৃণমূল ভবনে বৈঠকের নির্ধারিত জায়গা থাকলেও বৃষ্টির জেরে স্থান ও সময়ের বদল করা হয়। একটি বেসরকারি লজে ১৫টি বিধানসভার দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা সহ-সভাপতি অভিজিৎ রানা সিংহ বলেন, ‘‘কলকাতা থেকে আমাদের নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কাউকে বাদ দিয়ে পছন্দসই লোক নিয়ে সংগঠন করা চলবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’’
[দেশের অপরিষ্কার শহরগুলির মধ্যে অন্যতম দার্জিলিং!]
পাশাপাশি এদিন দলের সব নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেখানে যেখানে ভোট হয়েছে যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। তার তিনগুণ ভোটে এবার লোকসভা ভোটে জয় পেতে হবে৷ এদিন অনুব্রত মণ্ডল সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা এদিনের বৈঠকে মূলত কর্মীদের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য ডেকেছিলাম।” বেশ কিছু ব্লকের নেতাদের বিরুদ্ধে, কিছু অভিযোগ থাকলেও এদিন সে নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি। তবে এদিনের বৈঠকে খয়রাশোল ব্লক সভাপতি সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহম্মদবাজার কার্যকরী ব্লক সভাপতি তাপস সিনহা অনুপস্থিত ছিলেন। অনুব্রত মণ্ডল জানান, “দু’জনেই শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় অনুপস্থিতির কথা আগেই জানিয়েছিলেন।” তবে দীর্ঘদিন পরে খয়রাশোলে সভাপতি পদে দীপক ঘোষের নাম ঘোষণা করে সাহস দেখাল জেলা নেতৃত্ব। সে প্রসঙ্গে জেলা সভাপতি বলেন, “দীপক বয়সে তরুণ। কাজের ছেলে। ভাল ছেলে। সুকুমার শারীরিক কারণে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিল। তাই দীপককে সভাপতি করা হল।’’ এদিনের সভায় দুই মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিংহ সমেত সব বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তৃণমুলের দুটি লোকসভার দুই সাংসদ শতাব্দী রায় ও অনুপম হাজরা ছিলেন না৷
The post ‘বেজি হয়ে আমরা সাপ খেতেও পারি’, সাংগঠনিক বৈঠকে বিজেপিকে কটাক্ষ অনুব্রতর appeared first on Sangbad Pratidin.
