দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: ভাগাড় কাণ্ডের জেরে সতর্ক হুগলি জেলা প্রশাসন। জেলা জুড়ে বিভিন্ন বাজার ও দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন পুর প্রতিনিধিরা। বুধবার সকালে শ্রীরামপুর পুরসভার তরফে পচা মাংসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে এক রেস্তরাঁর ডিপ ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১০ প্যাকেট মেয়াদ উত্তীর্ণ দুধ। ঘটনাস্থল হুগলির এনএস অ্যাভিনিউয়ের ওম ক্যাসুয়াল রেস্তরাঁ। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ দুধ নয়, উদ্ধার হয়েছে মাংসও। অভিযোগ, বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরিতে বাসি দুধ ব্যবহার হত। শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অমিয় মুখোপাধ্যায় জানান, ওই রেস্তরাঁর ডিপ ফ্রিজটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু বাসি দুধের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। যার ব্যবহারের মেয়াদ ২৭ এপ্রিল শেষ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ওই ফ্রিজ থেকে পাওয়া মাংস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
[এবার শিলিগুড়িতে খোঁজ পচা মাংসের, সস্তার বিরিয়ানিতে নজর কাঁথিতেও]
অন্যদিকে পাশের পুরসভা রিষড়া এবিষয়ে বহু আগে থেকেই সতর্ক। রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র জানান, তাঁরা পুর এলাকার বিভিন্ন বাজার হোটেল, রেস্তরাঁর উপরে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছেন। তবে ভাগাড় কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার বহু আগেই তাঁরা পদক্ষেপ নিয়েছেন। রিষড়া পুর এলাকার মরা জীবজন্তুর সদগতির জন্য এক ব্যক্তিকে লিজ দিয়ে রাখা হয়েছে। কনজারভেন্সির হেলথ অফিসার ও স্যানিটারি ইনস্পেক্টরের তত্ত্বাবধানে ভাগাড়ে মরা জীবজন্তু গর্ত করে মাটিতে পুঁতে তাতে নুন দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। যাতে দূষণ ছড়িয়ে রোগের প্রাদূর্ভাব না ঘটে। এদিকে চাঁপদানি পুরসভায় ভাগাড় না থাকায় মৃত জীবজন্তুর পচা দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় পুরবাসীর। মরা জীবজন্তুর পাহাড় জমতে শুরু করেছে চাঁপদানির বিভিন্ন এলাকায়। খাটালে যত্রতত্র মরা গরু, মোষ পড়ে রয়েছে। যেহেতু চাঁপদানি অঞ্চলে খাটালের সংখ্যা প্রচুর ।তাই এইসব এলাকায় প্রচুর গরু-মোষ রয়েছে। বছর পাঁচেক আগে বৈদ্যবাটি এলাকায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট হওয়ার পর চাঁপদানিতে ভাগাড় বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাগাড়েই মড়া জীবজন্তু ফেলা হত। চাঁপদানি পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ মিশ্র জানান, সম্প্রতি ভাগাড়কাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। তারপর থেকে আর ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাগাড়ে আর মরা জীবজন্তু ফেলতে দেওয়া হচ্ছে না। এরফলে সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতি সপ্তাহে কম করে চাঁপদানি এলাকায় ১০ থেকে ১২ টি গরু মোষ মারা যায়। কিন্তু জায়গার অভাবে সেইসব মরা জীবজন্তুর কোনও সদগতি করা যাচ্ছে না। সুরেশ মিশ্র বলেন, তিনি খাটাল মালিকদের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁদের জায়গা থাকলে বলুক পুরসভা নিজের খরচে মাটি খুঁড়ে নুন দিয়ে পুঁতে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে মরা জীবজন্তু। কিন্তু এতেও সমস্যা রয়েছে। এলাকাবাসী তাঁদের এলাকায় মরা জীবজন্তু পোঁতা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি তুলেছেন। তাই অবিলম্বে মরা জীবজন্তুর সদগতি না করা হলে রোগ জীবাণু ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চাঁপদানির মানুষ।
[সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টি একাধিক জেলায়, সাগরদিঘিতে একজনের মৃত্যু]
The post রেস্তরাঁর ডিপ ফ্রিজ থেকে উদ্ধার মেয়াদ উত্তীর্ণ দুধ-বাসি মাংস, হুগলিতে চাঞ্চল্য appeared first on Sangbad Pratidin.
