'ককরোচ জনতা পার্টি'র ছাত্র আন্দোলন সমর্থন করে বিতর্কের শিকার অরিজিৎ সিং। বিক্ষোভকারী 'আরশোলা'দের রুখতে পুলিশি অভিযানে ক্ষিপ্ত গায়ক প্রশ্ন ছুড়েছিলেন, "বাহ! উর্দির আড়ালে গুণ্ডার মতো আচরণ। আপনাদের কি কোনও লজ্জা নেই? নেতামন্ত্রীরা কি নিজেদের ঈশ্বর ভাবা শুরু করেছেন??" এরপর থেকেই সোশাল পাড়ায় বেধড়ক কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয় অরিজিৎকে। একাংশ 'চিনের দালাল, দেশদ্রোহী' বলেও তোপ দাগেন। এমন আবহে অরিজিৎ সিংকে নিয়ে জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়ের পোস্টে সরগরম সোশাল পাড়া।
'কোনও ভারত বিরোধী ছাড়া ওই অসভ্যতামি কোনও ভদ্রলোক সমর্থন করতে পারে না।'
বিধায়কের পোস্টে উল্লেখ, 'অরিজিৎ সিং জিয়াগঞ্জে ফিরলেই বিক্ষোভ দেখানো উচিত এবং ওকে বয়কট করা উচিত। ওখানে রাষ্ট্রবাদী মানুষের সংখ্যা কম।' চিত্ত মুখোপাধ্যায়ের এহেন পোস্টে গায়কের অনুরাগীরা রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ বা আবার কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণও করেন তাঁকে। পালটা দিয়েছেন বিধায়কও। তাঁর মন্তব্য, 'যারা এতক্ষণ ধরে জঘন্য ভাষায় নিজ নিজ সংস্কার ও বংশ পরিচয় দিলেন, তাদের কোনও কথাই গ্রহণ করলাম না। কোনও ভারত বিরোধী ছাড়া ওই অসভ্যতামি কোনও ভদ্রলোক সমর্থন করতে পারে না।'
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল বিজেপি বিধায়কের পোস্ট।
রাজনীতির সাতে-পাঁচে না থাকলেও বরাবর বলিষ্ঠ কণ্ঠে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছেন। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি তুলে অরিজিৎ সিং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, “সব মনে রাখা হবে, ভুলে যাবেন না পরিবর্তনই একমাত্র ধ্রুবক।” গায়কের এহেন প্রতিবাদী পোস্ট-বিস্ফোরণে সোশাল মিডিয়াও সরগরম। তবে অনুরাগীমহল উচ্ছ্বসিত হলেও ‘মধ্যমেধার ককরোচ’দের পাশে দাঁড়ানোয় একাংশ আবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, অরিজিৎ সিংয়ের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও। উল্লেখ্য, বিতর্কের ঝড়ে যদিও অরিজিৎ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি 'ককরোচ'দের সমর্থক নন, বরং ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের হয়েই সুর চড়িয়েছেন। এবার জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়কের 'বয়কট হুমকি'র পোস্টে উত্তাল নেটভুবন।
