আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের স্যাটা ভাঙা মারের মন্তব্যে এবার দায়ের অভিযোগ। শনিবার সন্ধ্যায় হুমায়ুনের (Humayun Kabir) বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করল বিজেপি যুব মোর্চা। সামাজিক সংগঠন রাম সীতা সেবা মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হুমায়ুন বলেছিলেন, "এমন মার দেব স্যাটা গরম করে দেব। তখন কে মুখ্যমন্ত্রী, কে পুলিশ সুপার সেই সব হুমায়ুন কবির তোয়াক্কা করবে না।"
‘হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীর জলে মিশিয়ে দেব’ থেকে ‘স্যাটাভাঙা মার’, রাজ্য সরকার পরিবর্তন হলেও হুমায়ুন কবীরের ভাষার কোনও বদল ঘটেনি। প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক থাকাকালীন যতটা কুরুচিকর ভাষায় তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতেন, বিজেপির আমলেও সেই একই বিতর্কের রেশ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ছাব্বিশের ভোটের আগে ঘনঘন এমন হিংসাত্মক মন্তব্যের কারণে হুমায়ুনকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়। তারপর তিনি নিজে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি খুলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নওদা ও রেজিনগর – দুটি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জেতেন এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র জনপ্রতিনিধি হন। পরে অবশ্য রেজিনগর আসনটি তিনি ছেড়ে দেন ছেলের জন্য।
সেই রেজিনগরেই শুক্রবার জনসভা ছিল হুমায়ুনের। বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের উত্তেজক কথাবার্তা বলেন তিনি। বিধায়কের কথায়, "বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু, একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না। কেস দেবেন? ওরকম কেস আমাদের অনেক আছে। আমাদের সঙ্গে যদি বেশি পাঙ্গা নিতে যায়, আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার – এসব কিছু বুঝব না।আমরা রাজশক্তির বিরোধিতা করতে চাই না, সম্মান দিতে চাই। কিন্তু এখানে হেরেও যদি ওরা ঝামেলা বাঁধানোর চেষ্টা করে, তাহলে ছাড়ব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দেব।" সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে দায়ের হল মামলা।
