ঘরের মেঝেতে জড়ো করে রাখা লাঠিসোঁটা। ডাস্টবিনে ব্যবহৃত কন্ডোমের প্যাকেট। ইতিউতি পড়ে রয়েছে মদ এবং ঠান্ডা পানীয়ের বোতল। কোথাও পড়ে রয়েছে পাজামা। নিউ বারাকপুরের এপিসি কলেজের (APC College) দরজা খুলতেই চোখ কপালে কলেজ কর্তৃপক্ষের। ইউনিয়ন রুম নাকি ফুর্তির আখড়া, উঠছে প্রশ্ন।
দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। তা নিয়ে মামলা হয়েছিল কলকাতা আদালতে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গতবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে রাজ্যের সমস্ত কলেজের ইউনিয়ন রুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় হাই কোর্টের তরফে। কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে হদিশ মিলেছে বিলাসবহুল বেডরুমের। বারাসত গর্ভনমেন্ট কলেজের ছাদেও মিলেছে কন্ডোম-মদের বোতল। তারই মাঝে সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে রাজ্যের কলেজগুলিতে ইউনিয়ন রুম খোলা নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে বলা হয়, সমস্ত কলেজের ইউনিয়ন রুম খুলতে হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়, অধ্যক্ষ বা টিচার ইন চার্জের নেতৃত্বে মোট পাঁচজন সেখানে উপস্থিত থাকবেন। গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। সেখানে কী কী পাওয়া গেল, ৭ দিনের মধ্যে তার বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে বিকাশ ভবনে। যদি আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে হবে গর্ভনিং বডি ও ডিপিআইকে।
সেই অনুযায়ী শুক্রবার নিউ বারাকপুরের এপিসি কলেজের ইউনিয়ন রুম খোলা হয়। দরজা খুলতেই দেখা যায় কন্ডোম, নেশার সামগ্রী পড়ে রয়েছে। লাঠিসোঁটাও পড়ে রয়েছে। কীভাবে এসব সামগ্রী ইউনিয়ন রুমে এল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন। ওই কলেজেরই বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর দাবি, তৃণমূল জমানায় ওই কলেজে টিএমসিপি সদস্যরা 'গা-জোয়ারি' করেছে। তারা ইউনিয়ন রুমে কাউকে ঢুকতে দিত না বলেও অভিযোগ। তাই পালাবদলের বাংলায় ইউনিয়ন রুম থেকে কন্ডোম, নেশার সামগ্রী উদ্ধারের দায় টিএমসিপিকে নিতে হবে বলেই দাবি ছাত্রছাত্রীদের। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় অত্যন্ত হতাশ কলেজের প্রাক্তনীরা। যে বা যারা কলেজে এমন কার্যকলাপ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি করা হয়েছে।
