মুর্শিদাবাদে ফের বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী! তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তই বদলে দিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। তৃণমূল নেতাদের কংগ্রেসে যোগদান আপাতত স্থগিত করল এআইসিসি।
এআইসিসির তরফে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা গিয়েছে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের কংগ্রেসে যোগদান করাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য এআইসিসি-র অনুমতি ছাড়া কোনও যোগদান করানো যাবে না। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট তৃণমূল থেকে কিছু ব্যক্তি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বলে খবর এসেছে। ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ পাঁচ তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ও মুর্শিদাবাদ জেলাপরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবাইদুর রহমান কংগ্রেসে যোগদান করেন অধীর ও সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর উপস্থিতিতে। ওই যোগদান আপাতত স্থগিত রাখা হল।
এই সেই চিঠি।
পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেসকে কোনও যোগদান কর্মসূচি না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে চিঠিটি দিয়েছেন এআইসিসির সম্পাদক প্রকাশ যোশী। এর ফলে অধীরের নেতৃত্বে যে যোগদান পর্ব চলছিল, তা বড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বলে রাখা প্রয়োজন, রবিবার অধীর চৌধুরীর হাত ধরে ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলাম রাজা, ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শারিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর ও কর্মী তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে শামিল হন। একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবাইদুর রহমানও কংগ্রেসে যোগদান করেন। এরপরেই তৈরি হয় বিতর্ক। বিশেষ করে ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলাম রাজার কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
গত দু'বছর আগে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে ওয়াকফ সংশোধনী নতুন আইন বাতিলের দাবিতে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। সেই অশান্তিতে নাম জড়ায় ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলাম রাজার। তাঁর বিরুদ্ধে হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে মামলা চলছে রাজার বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেস যোগ দিতেই সুর চড়ায় বিজেপি। দক্ষিণ মালদহ বিজেপির সাংগঠনিক সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ বলেন, ”যারা তৃণমূলে ছিল, আজ তাঁরাই কংগ্রেসের নৌকায় শামিল হচ্ছে। তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এই দলবদল।” বিজেপি নেতার কথায়, ”সামশেরগঞ্জের হিংসায় যারা জড়িত ছিল তারা নিজেদের বাঁচতে এই দলবদল বলে আমরা মনে করি। কিন্তু দলবদল করেও এরা নিজেদের বাঁচতে পারবেন না।”
যদিও কোনও হিংসাতে কোনওভাবেই তিনি জড়িত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর পালটা দাবি, ”অশান্তিতে আমি কোনভাবেই জড়িত ছিলাম না। পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে আমার নামে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়। তার মোকাবিলায় আইনি মোকাবিলায় নেমেছি।”
