সংগ্রাম সিংহরায়: তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই- ঠিক এ কথা না হলেও, মনে মনে হয়তো এ পংক্তিই ঘুরছিল বনকর্মীদের। তাঁদেরও যে হরিণ চাই। একটা নয়, আবার দুটো। মে দিবসে ছুটির দিনে কোচবিহারের মাথাভাঙার অনুকূলচন্দ্রের আশ্রম থেকে হাওয়া তিন তিনটি হরিণ। একটাকে ফিরিয়ে আনেন গ্রামবাসীরাই। তবে বাকি দুটিকে খুঁজে পেতে ঘুম ছুটেছে বনকর্তাদের।
[ চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর জখম যাত্রী, ধাক্কা মারার অভিযোগ বন্ধুর ]
হরিণ নিখোঁজে রীতিমতো হুলস্থূল। মঙ্গলবার জামালদহের ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আশ্রম থেকে তিনটি হরিণ পালিয়ে যায়। জানা যায় আশ্রমের বেড়া ভাঙা ছিল। তার সুযোগ নিয়েই হাওয়া হয় হরিণ। দিনভর তল্লাশি চালিয়ে একটিকে গ্রামবাসীরা ধরে আনলেও বাকি দু’টির কোনও খোঁজ মেলেনি। আশ্রমের তরফে অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, সরকারি অনুমতি নিয়েই ওই হরিণ তিনটি আশ্রম চত্বরে রাখা হয়েছিল। কিছুদিন আগে আশ্রমের একদিকের বেড়া ভেঙে যায়। সেখান দিয়েই পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে হরিণগুলি বলে আশ্রম কতৃর্পক্ষের ধারণা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনও। তিনি বলেন, “দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। হরিণ দু’টি কোথায় গেল তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি।” তবে এবার উদ্ধার হলে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
[ বাগনানের বাউল শিল্পীর গান এবার উঠে এল তৃণমূলের দেওয়াল লিখনে ]
অন্যদিকে এদিন গ্রামে হঠাৎ হরিণ চলে আসায় হইচই পড়ে যায়। সকালে তখন দিনের কাজে ব্যস্ত গোটা গ্রাম। হঠাৎ বাড়ির বাইরে বের হতেই নজরে পড়ে, রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে একটি হরিণ! সত্যি নাকি! নিজের গায়ে চিমটি কেটেও বিশ্বাস করতে পারেননি মাথাভাঙার ভোগারামগুড়ির বাসিন্দারা। তবে বাড়ির সামনেই বনের প্রাণী দেখে দিনভর আমোদে মেতেছেন এলাকার বাসিন্দারা। এমনিতে মে দিবসে ছুটির দিন। তার উপর দিনভর নিখরচায় হরিণ দর্শনের সুযোগ পেয়ে কেউই তা ছাড়েননি। অবশ্য কেউই হরিণটির ক্ষতি করেননি। গ্রামের কয়েকজন প্রাণীটিকে আটকে বন দপ্তরে খবর দেন। জামালদহ রেঞ্জের আধিকারিকরা গিয়ে হরিণটিকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটে, মাথাভাঙ্গার এক নং ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোগারামগুড়ি এলাকায়। বন দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের অনুমতিতেই জামালদহ অনুকূলচন্দ্র আশ্রমে কিছু হরিণ রাখা হয়। সেখান থেকেই এদিন তিনটি হরিণ বেড়া টপকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তবে বাকি হরিণগুলি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত রাতের ঘুম উড়েছে বনকর্তাদের। ছুটির দিনেও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। গাড়ি নিয়ে গোটা এলাকা ঘুরছেন বনকর্মীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত হরিণ উদ্ধার হয়েছে এমন কোনও খবর নেই।
[ আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে শিশুকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা মামার ]
The post আশ্রমের বেড়া ভেঙে পালাল হরিণ, উদ্ধারে ছুটির দিনে গলদঘর্ম বনকর্মীরা appeared first on Sangbad Pratidin.
