shono
Advertisement
Durgapur

কোলিয়ারির নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে রেখে দুঃসাহসিক ডাকাতি! প্রকাশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ

শনিবার গভীর রাতে অন্ডালের পড়াশকোল ইস্ট কোলিয়ারিতে এমনই ডাকাতির ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে খনি এলাকায়।
Published By: Arpita MondalPosted: 09:28 AM Aug 16, 2026Updated: 09:28 AM Aug 16, 2026

রাতের অন্ধকারে আচমকা হানা। হাতে ধারালো অস্ত্র, মুখ ঢাকা। মুহূর্তের মধ্যে কোলিয়ারির নিরাপত্তারক্ষীদের ঘিরে ফেলে দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে গেলেই শুরু হয় মারধর। এরপর একে একে লুটে নেওয়া হয় মোবাইল, নগদ টাকা, এটিএম কার্ড এবং গলার চেন। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তারক্ষীদের একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে চলে তাণ্ডব। কোলিয়ারির টেলিফোনও ভাঙচুর করা হয়। কোলিয়ারির একাধিক সামগ্রীও চুরি গেছে বলে অভিযোগ। শনিবার গভীর রাতে অন্ডালের পড়াশকোল ইস্ট কোলিয়ারিতে এমনই ডাকাতির ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে খনি এলাকায়। দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বছর পর কোলিয়ারিতে ফের এই ধরনের দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি শ্রমিকদের। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাতের ডিউটিতে থাকা শ্রমিক ও নিরাপত্তারক্ষীদের নিরাপত্তা কোথায়?স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আনুমানিক ৮ থেকে ১০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল রাতের অন্ধকারে কোলিয়ারিতে ঢোকে। তাদের প্রত্যেকের মুখ ঢাকা ছিল। ফলে কাউকেই শনাক্ত করতে পারেননি নিরাপত্তা রক্ষীরা।

Advertisement

দুষ্কৃতীদের হাতে ছিল ছুরি বা চাকু ও শাবল। অস্ত্র দেখিয়ে প্রথমেই তারা কোলিয়ারির কর্মরত নিরাপত্তারক্ষীদের ভয় দেখায়। ঘটনায় আক্রান্ত রামবদন কাহার বলেন," দুষ্কৃতীরা আচমকা আমাদের উপর চড়াও হয়। মারধর করে তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন এবং নগদ ৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কোলিয়ারির ‘হাজরি বাবু’র কাছ থেকেও মোবাইল ফোন, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা এবং গলার চেন কেড়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি কোলিয়ারির তিনজন নিরাপত্তারক্ষীর মোবাইল ফোনও লুট করে দুষ্কৃতীরা। লুটপাটের আগে এবং পরে আক্রান্তদের উপর চলে মারধর। একসময় সকলকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় দুষ্কৃতীরা। কোলিয়ারির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দিয়ে এরপর তারা চুরি করতে এগিয়ে যায়।" প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের মূল লক্ষ্য ছিল কোলিয়ারির তামার সামগ্রী চুরি করা। সেই চুরিতে বাধা দিতে গিয়েই নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

শুধু লুটপাট নয়, কোলিয়ারির টেলিফোনও ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা। এরপর অবাধে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা খনি শ্রমিক রাজীব মাহাতো বলেন," আমি রাতে নিজের ডিউটিতে কর্মরত ছিলাম। সেই সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী অস্ত্র হাতে আমাদের কাছে আসে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।" ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অন্ডাল থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্ত। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে কোলিয়ারির রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement