রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে উত্তরের চা শিল্পের আধুনিকীকরণ এবং বাগানগুলির সংকট উত্তরণে বিশেষ প্যাকেজ ও 'টি-ট্যুরিজম' নীতিতে বড় বদলের প্রস্তাব নিয়ে আশার আলো দেখছেন দার্জিলিংয়ের 'জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন' অর্থাৎ জিআই তকমা যুক্ত চা উৎপাদকরা। চা বণিকসভাগুলোর মতে চা বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিলিগুড়িতে 'কমন টি প্রসেসিং সেন্টার' তৈরি হলে চা শিল্প উপকৃত হবে।
এমনিতেই আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্য দার্জিলিংয়ে চা উৎপাদন ১২ মিলিয়ন কেজি থেকে কমে ২০২৪ সাল থেকে ৬ মিলিয়ন কেজিতে নেমে এসেছে। উৎপাদনে লোকসান বেড়ে যাওয়ায় দার্জিলিংয়ের অনেক চা-বাগান কর্তৃপক্ষ 'টি-ট্যুরিজম'-এর পথ বেছে নিয়েছেন। এদিকে জিআই তকমা যুক্ত দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এতদিন যথেচ্ছভাবে নেপালের নিম্নমানের চা ভারতে ঢুকেছে। অভিযোগ, বিভিন্ন কোম্পানি নেপালের চা 'দার্জিলিং চা' হিসেবে বাজারজাত করছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত দার্জিলিং চায়ের গৌরব নষ্ট হচ্ছিল। সম্প্রতি চা পর্ষদ সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল থেকে ভারতে রপ্তানি করা চায়ের গুণগত মান খতিয়ে দেখতে কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করায় দার্জিলিংয়ের চা বাগান মালিকরা খুশি। যেমন, সতীশ মিক্রকা বলেন, "একদিকে যখন চা পর্ষদ নেপালের চায়ের গুণগত মান যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার সংকট উত্তরণে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, এবার রাজ্য বাজেটে দার্জিলিং এবং উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবন কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিলিগুড়িতে একটি 'কমন টি প্রসেসিং সেন্টার' স্থাপনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, "রাজ্য বাজেটে বন্ধ চা বাগান চালু করতে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ৩১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা সহ 'প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা' চালুর প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এরফলে একদিকে যেমন চায়ের উৎপাদন বাড়বে তেমন অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে।" চা বণিকসভাগুলো সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন তরাই, ডুয়ার্স ও দার্জিলিং পাহাড়ে প্রায় ৪০টি চা বাগান বন্ধ হয়ে আছে। দার্জিলিংয়ের ৮৭টি চা বাগানের প্রায় সবকটিতে 'অর্গানিক' অর্থাৎ জৈব পদ্ধতিতে চা উৎপাদন হয়ে থাকে। কয়েক বছরে সেখানে ১৩টি চা বাগান বন্ধ হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সামগ্রিক উৎপাদন কমেছে। একইভাবে বেকারত্ব বেড়েছে।
