গোপন সূত্রে আগেই খবর এসেছিল। বিমানবন্দরে এক ব্যক্তির আচরণ, চলাফেরা দেখে সন্দেহও হয়েছিল তদন্তকারীদের। তাঁকে ধরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেও সন্দেহ কাটেনি। এরপর ওই ব্যক্তির তল্লাশি চললেই চোখ চকচকে হয়ে ওঠে আধিকারিকদের। উদ্ধার হয় বহুমূল্যের হিরে! মোট ৪৬টি হিরে উদ্ধার হয়েছে, বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। আজ, মঙ্গলবার বেলায় উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে (Bagdogra Airport) ওই হিরে উদ্ধার হল। ধৃতের নাম দীপক কুমার মহাসুকলাল মেহতা ওরফে দীপক কুমার মেহতা। তার বাড়ি দিল্লিতে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ(ডিআরআই)। বিমানপথে হিরে পাচার হবে! সেই তথ্য গোপন সূত্রে জানতে পেরে তদন্তকারীরা নজরদারি শুরু করেছিলেন। কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ ডিআরআই বাগডোগরা বিমানবন্দরে জাল বিছায়। সেখানেই বমাল পাকড়াও হন ওই ব্যক্তি। অভিযুক্ত দীপক কুমার মেহতা বিমান ধরার জন্য বিমানবন্দরে এসেছিলেন এদিন বেলায়। তাঁকে দেখেই সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলেও মুখবন্ধ রাখেন তিনি। এরপর তাঁর লাগেজ পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে পড়ে ওই বিপুল পরিমাণ হিরে। জানা গিয়েছে, লাগেজের ভিতর একটি প্যাকেটের মধ্যে ওই হিরে রাখা ছিল। সেগুলির কোনও কাগজপত্রও ছিল না বলে খবর। শেষপর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় ওই হিরে। জানা গিয়েছে, মোট ৪৬টি হিরে পাচার করা হচ্ছিল। বাজারদর ৪ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা।
ওই হিরে নেপাল থেকে সড়কপথে শিলিগুড়ি নিয়ে আসা হয়েছিল। বাগডোগরা থেকে বিমানে দিল্লি পাচার হচ্ছিল ওই বহুমূল্যের হিরে। ডিআরআই-এর আইনজীবী রতন বণিক বলেন, "মোট ৮০৮.৩৩ ক্যারেট বা ১৬১.৬৬ গ্রাম হিরে উদ্ধার হয়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁকে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা ও এই হিরে কার থেকে এনে কোথায় পাচারের ছক কষা হয়েছিল? সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
