বাংলার প্রায় দু'হাজার পঞ্চায়েত প্রধান নিষ্ক্রিয়! রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানদের অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন, অনেকে বাড়িতেই থাকছেন! ফলে পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অনেক সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এবার এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ। 'পলাতক' পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশ্যে খোদ পঞ্চায়েত মন্ত্রীর বার্তা, "ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে। ভালোয় ভালোয় চলে আসুন।" পঞ্চায়েত প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা বেতন নিচ্ছেন, অথচ পরিষেবা দিচ্ছেন না! "কাজ না করলে পদত্যাগ করুন।" সেই বার্তাও দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
রাজ্যে পালাবদলে বিজেপি ক্ষমতা এসেছে। তৃণমূলের নেতাদের অনেকের নামে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শহর থেকে গ্রামে তৃণমূলের নেতা, পঞ্চায়েত প্রধানদের ডিম মারা হচ্ছে! বহু জায়গাতেই পঞ্চায়েট প্রধানরা দপ্তরে কাজ করতে যাচ্ছেন না! অনেকে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন, অনেকে বাড়িতেই থাকছেন! এই অবস্থায় পঞ্চায়েত কাজকর্ম আটকে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ দপ্তরে কাজের জন্য গিয়েও ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন! অনেক পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ আটকে যাওয়ার কথা মেনে নিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি এই আবহে বলেছেন, "কাজের খুব সমস্যা হচ্ছে। প্রায় দু'হাজার পঞ্চায়েত প্রধান নিষ্ক্রিয় বা পালিয়ে গিয়েছেন। অফিসে আসছেন না। সরকারি কাজের প্রকল্পগুলিতে সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, মানুষ বিভিন্ন কাজে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না। পেমেন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, তার পেমেন্ট দিতে হবে। টেন্দার দিতে হবে। আবাস যোজনা, সড়ক যোজনা হবে না।"
এই অবস্থায় পঞ্চায়েত মন্ত্রীর বার্তা, "আমি আবেদন করছি, যারা জনগণের ভোটে জিতে এসেছেন, তারা এসে কাজ করুন। এলে কেউ টোন-টিটকিরি করতে পারেন। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। রাজনীতি করতে এসেছেন। যডি না আসেন বেশি সমস্যা হবে।" এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, "দরকার হলে পুলিশ পাঠাব বাড়িতে। তুলে নিয়ে আসবে, সাধারণ মানুষকে দিয়ে বাড়ি ঘেরাও করাব। ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে তখন। ভালোয় ভালোয় চলে আসুন।"
