সততার নজির গড়লেন কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) এক টোটো চালক। যাত্রীর ফেলে যাওয়া লক্ষাধিক টাকা-সহ ব্যাগ ফিরিয়ে দিলেন মালিকের হাতে। ওই টোটো চালকের নাম প্রশান্ত মণ্ডল। তিনি বীরনগরের লিচু ফার্ম এলাকার বাসিন্দা। তাঁর এই কাজে প্রশংসায় মুখর স্থানীয়রা। পুরো টাকা ফেরত পেয়ে খুশি মালিক দুর্গাচরণ বিশ্বাস।
জানা গিয়েছে, বীরনগরের বসাকপাড়ার বাসিন্দা দুর্গাচরণ বিশ্বাস লক্ষাধিক টাকা নিয়ে টোটোয় করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাড়াহুড়োর মধ্যে তিনি টোটো থেকে নামার সময় ব্যাগটি না নিয়েই বাড়ি চলে যান। বাড়ি পৌঁছে ব্যাগের কথা মনে পড়তেই মাথায় হাত পড়ে দুর্গাচরণবাবুর। কীভাবে এত টাকা ফিরে পাবেন, তা নিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এদিকে যাত্রীকে নামিয়ে টোটো নিয়ে বাড়ির পথে ফিরছিলেন চালক প্রশান্ত মণ্ডল। সেই সময় টোটোর মধ্যেই তাঁর নজরে আসে একটি ব্যাগ। ব্যাগ খুলতেই ভিতরে লক্ষাধিক টাকা দেখে চমকে যান তিনি। চাইলেই সেই টাকা নিজের কাছে রেখে দিতে পারতেন, কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি প্রশান্ত। এরপর হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন ব্যাগের মালিককে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের পাশাপাশি গোটা বিষয়টি থানায় জানান। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় ব্যাগটির প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত দুর্গাচরণ বিশ্বাসের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁর হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ-সহ সমস্ত টাকা। লক্ষাধিক টাকা ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফেরে দুর্গাচরণবাবুর। অন্যদিকে, প্রশান্ত মণ্ডলের সততায় মুগ্ধ তিনি। প্রশান্তকে বাহবা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান দুর্গাচরণবাবু।
প্রশান্ত মণ্ডলের কথায়, ‘‘আমরা দিন আনি, দিন খাই। কিন্তু এই টাকা তো কারও না কারও কষ্টের উপার্জন। সেই টাকা নিজের কাছে রেখে দিলে হয়তো আমার লাভ হতো, কিন্তু একজন মানুষের সর্বনাশ হয়ে যেত। তাই লোভ-লালসার কথা না ভেবে মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। শেষে পুলিশের সাহায্যে টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’’
প্রশান্তের এই বক্তব্যই যেন গোটা ঘটনার সারকথা। সাধারণ এক টোটোচালক হয়েও মানুষের কষ্টের উপার্জনের মূল্যকে নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখেছেন তিনি। তাঁর এই সততায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্য টোটোচালকরাও প্রশংসায় মুখর। লক্ষাধিক টাকা ফিরে পাওয়ার পর দুর্গাচরণবাবুর মুখের হাসি আর প্রশান্ত মণ্ডলের স্বস্তি—বীরনগরের এই ঘটনা যেন মনে করিয়ে দিল, অর্থের লোভে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সততা এখনও হারিয়ে যায়নি।
