দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের আয়ার কঙ্কালসার দেহ উদ্ধার। পচা গন্ধ ঢাকতে দেহে ঢালা হয়েছিল নুন। ব্যাপক চাঞ্চল্য দুর্গাপুর (Durgapur) থানার ইস্পাত নগরীর ডি-সেক্টর মার্কেটে। গ্রেপ্তার মৃতার পুরুষসঙ্গী।
জানা গিয়েছে, মৃতা প্রৌঢ়ার নাম ছবি দাস। তাঁর বয়স ৫৫ বছর। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসপাতালে এক এজেন্সির অধীনে আয়ার কাজ করতেন তিনি। তাঁর পুরুষসঙ্গী প্রদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ছবি দাসকে খুনের অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসীরা। স্থানীয়দের দাবি, ডি সেক্টরে আইএনটিটিইউসি কার্যালয়ের পাশেই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আবাসনের সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে প্রদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গেই থাকতেন ছবি দেবী। প্রদীপ চক্রবর্তী আগে ডিএসপিতে ঠিকা কর্মীর কাজ করতেন। কিন্তু অনিয়মিত উপস্থিতি ও কর্মরত অবস্থায় মদ্যপানের জন্যে চাকরি চলে যায়। তাঁর স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। মৃতা ছবি দাসের নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মদ্যপান নিয়েও প্রদীপ এবং ছবির মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকতো বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার সকালে পচা গলা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা প্রদীপ চক্রবর্তীর কোয়ার্টারের ভেতরে ঢুকে চমকে যান। দেখেন আবাসনের একটি ঘরে প্রায় কঙ্কাল হয়ে যাওয়া দেহ পড়ে রয়েছে। দেহের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে গাদা গাদা নুন। অন্য ঘরে রয়েছেন প্রদীপ। এরপরেই তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এয়ালাকায় পৌঁছে কঙ্কালসার দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আটক করে অভিযুক্ত প্রদীপ চক্রবর্তীকে।
স্থানীয় বাসিন্দা এন্থনী ডি'সুজা অভিযোগ করেন, "ছবি দাস খুব ভালো মহিলা ছিল। কয়েক মাস ধরে দু'জনের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। সেই থেকেই খুন করা হয়েছে। খুন করার পর যাতে গন্ধ না ছড়ায় সেইজন্য নুন ছেটানো হয়েছে। আমরা কঠোর শাস্তি চাইছি।" পুলিশ প্রদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের অনুমান, মাস খানেক আগে মৃত্যু হয়েছে ছবি দাসে। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের সিআই (এ) রনবীর বাগ জানান, "ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।"
