এসআইআরের শুনানি (SIR Hearing) কেন্দ্রে কারা আগে ঢুকবেন? সেই নিয়ে শুরু হয় গোলমাল। তারপরেই তুমুল হই-হট্টগোল। সেই বিবাদ বদলে যায় হাতাহাতি, মারামারিতে! ঘটনায় ছিঁড়ে যায় জামাকাপড়। ঘটনায় এক বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের (Malda) ইংরেজবাজার থানা এলাকায়।
এসআইআরের শুনানি (SIR Hearing) কেন্দ্রে ঘটল ধুন্ধুমার কাণ্ড, দুই পক্ষের বচসা থেকে হাতাহাতি, মারপিট! উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা শুনানি কেন্দ্র। অন্যদিকে, এদিনই এসআইআর প্রক্রিয়ায় হয়রানি বন্ধের দাবি তুলে জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন পেশ করে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি আবদুর রহিম বক্সি, মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন-সহ জনপ্রতিনিধিরা। এদিন ওই শুনানি কেন্দ্রে পুলিশকে ঘিরেও চলে তুমুল বিক্ষোভ! শুনানি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার আগেই পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয় শুনানি। ঘটনার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মহিলা। এছাড়াও কমবেশি আহত হন অন্তত পাঁচজন।
সোমবার দুপুরে এসআইআরের শুনানি পর্ব চলাকালীন এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে মালদহের ইংরেজবাজার শহরের জেলা স্কুল চত্বরে। জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রচুর সংখ্যক মানুষকে এই শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হয়েছিল। লাইনে ঠাসাঠাসি ভিড়। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা। অসুস্থ মহিলাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে পুলিশের গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অসুস্থ হয়ে পড়া ওই মহিলা রাজিয়া বিবির বাড়ি নরহাট্টা অঞ্চলের ১৭৬ নম্বর বুথ এলাকায়। অভিযোগ, তাঁকে পরপর তিনদিন হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় হয়রানির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁর আত্মীয় স্বজনরা।
ওই ঘটনার পরেই শুনানিতে কারা আগে ঢুকবেন, তাই নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়! তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যকে জামাকাপড় ছিঁড়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তৈরি হয় তুলকালাম পরিস্থিতি। শুনানি কেন্দ্রের গেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দু'পক্ষের বিবাদের মাঝখানে পড়ে আহত হন লাইনে দাড়িয়ে থাকা রীনা বিবি নামে এক বৃদ্ধা, বাড়ি যদুপুর এলাকায়। তাঁকেও মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন শুনানি কেন্দ্রে আসা মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, লাইনে ঠাসাঠাসি ভিড়। কোনওরকম সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা হয়নি। হুড়োহুড়ির জেরে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। পুলিশের সামনেই একে অপরের বিরুদ্ধে মারমুখি হয়ে ওঠেন শুনানি কেন্দ্রে আসা বেশ কিছু গ্রামবাসী। মৌখিকভাবে উপস্থিত পুলিশ কর্তাদের নালিশ জানানো হলেও প্রয়োজনীয় কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আহত হয়েছেন ইংলিশবাজার ব্লকের যদুপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেস সদস্য আসিফ ইকবাল। এদিকে অভিযোগ, তাঁর অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধিয়া এলাকার গ্রামবাসীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
