shono
Advertisement
Raghunathganj

ভয়াবহ পদ্মার গ্রাসে রঘুনাথগঞ্জ, রাতেই নদীগর্ভে ১৯টি বাড়ি ও প্রাচীন মনসা মন্দির

ফের পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন মুর্শিদাবাদে। রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লকের তারানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাকৃষ্ণপুরে রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভাঙন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। একরাতেই পদ্মা গিলে নিল প্রাচীন মনসা মন্দির-সহ ১৯টি বসতবাড়ি।
Published By: Suhrid DasPosted: 04:02 PM Sep 15, 2026Updated: 04:04 PM Sep 15, 2026

ফের পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন মুর্শিদাবাদে। রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লকের তারানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাকৃষ্ণপুরে রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভাঙন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। একরাতেই পদ্মা গিলে নিল প্রাচীন মনসা মন্দির-সহ ১৯টি বসতবাড়ি। তলিয়ে গিয়েছে চায়ের, মিষ্টির ও সাইকেলের দোকান ছাড়াও বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি। ভাঙনের মুখে আরও ৫০ থেকে ৭০টি বাড়ি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাধাকৃষ্ণপুরে ভাঙন শুরু হলেও গত চার দিন ধরে তা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎই নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় হুড়মুড়িয়ে পাড় ভাঙতে শুরু করে। চোখের সামনে একের পর এক ঘর নদীতে তলিয়ে যেতে দেখে আতঙ্কে গ্রাম ছাড়তে শুরু করেন বাসিন্দারা। বহু পরিবার এখন রাস্তার ধারে, গাছতলায় এবং স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সুপ্রিয়া দাস জানান, "দুটি ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, বারান্দা, পাঁচিল সব নদীতে চলে গেল। কিছুই বের করতে পারিনি।" আরেক বাসিন্দা বাবুল দাসের অভিযোগ, "চার দিন ধরে ভাঙছে, প্রশাসন শুধু দেখে যাচ্ছে। বালির বস্তা ফেলে দায় সারছে। এখনও এক টাকা সাহায্য পাইনি।" পাশাপাশি গ্রামবাসী প্রেম কুমার সিং বলেন, "বস্তা ফেলে ভাঙন আটকানো যাবে না। বোল্ডার দিয়ে স্থায়ী বাঁধ না করলে গোটা রাধাকৃষ্ণপুর মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।” পুনর্বাসন নিয়েও ক্ষোভ চরমে। 

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নদীরপারের বাড়ি। নিজস্ব চিত্র

কাশীনাথ দাসের অভিযোগ, একবছর আগে ঘর হারানোর পর প্রশাসন পাট্টার জমি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও মেলেনি। ফাইলে আটকে রয়েছে পুনর্বাসন। এদিকে, সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুরেন্দর সিং, মহকুমা শাসক গাদ্দাম সুধীর কুমার রেড্ডি, বিডিও ও সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। পুলিশ সুপার জানান, রবিবার রাত থেকেই পুলিশ মাইকিং করে ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে।

মহকুমা শাসক গাদ্দাম সুধীর কুমার রেড্ডি জানান, ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করা হচ্ছে। সেচ ও ভাঙন প্রতিরোধ দপ্তরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়েছে। দ্রুত বোল্ডার ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোখার চেষ্টা চলছে। তিনি বাসিন্দাদের ভাঙনস্থল থেকে দূরে থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তবে আতঙ্ক কাটছে না রাধাকৃষ্ণপুরে। নদী থেকে বসতি এখন মাত্র ১০০ মিটার দূরে। যে কোনও মুহূর্তে আরও বড় বিপদের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে গোটা গ্রাম।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement