নবেন্দু ঘোষ, বসিরহাট: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বাবা, মা ও মেয়ের৷ মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগরের গাবোডা গ্রামে৷ নিহতেরা হলেন বিজয় চট্টোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী অনুশ্রী চট্টোপাধ্যায় ও তাঁদের একমাত্র সন্তান তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়৷ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া৷
বসিরহাটের স্বরূপনগরের গাবোডা গ্রামেই ছোট থেকে বেড়ে উঠেছেন বিজয়৷ বছর দশেক আগে অনুশ্রীর সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর৷ দম্পতির একমাত্র মেয়ে তনুশ্রীর বয়স আট বছর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বরাবরই ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের৷ বৃহস্পতিবার সকালেও প্রায় একই সময় ঘুম ভেঙেছিল তিনজনের৷ বিজয়বাবুদের বাড়ির সামনে বিদ্যুতের খুঁটি৷ কিন্তু সেই খুঁটি থেকে তার ঝুলছে, তা খেয়াল করেননি অনুশ্রী। অন্যমনস্কভাবে হাঁটার সময়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি৷ মাকে ছটফট করতে দেখে এগিয়ে যায় ওই গৃহবধূর বছর আটেকের মেয়ে তনুশ্রী৷ মাকে জড়িয়ে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই তড়িদাহত হয় সে-ও৷ চোখের সামনে স্ত্রী ও মেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, তা বেশীক্ষণ দূরে দাঁড়িয়ে দেখতে পারেননি বিজয়৷ তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে শেষপর্যন্ত তিনিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হন।
[কোচবিহারে প্রিজন ভ্যান থেকে চম্পট দিল দুই বাংলাদেশি বন্দি়]
চিৎকার শুনে যখন প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে পৌঁছান, ততক্ষণে মারা গিয়েছেন তিনজনই। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বসিরহাট থানায়৷ দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।ঘটনাস্থলে যান বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরাও৷ কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা৷ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বিজয়-অনুশ্রীর৷ ছোট্ট তনুশ্রীকে খুবই ভালবাসতেন স্থানীয়রা৷ এই দুঃসংবাদে ভেঙে পড়েছে গোটা গ্রামে৷ কান্নার রোল এলাকায়৷ চোখের জল বাঁধ মানছে না প্রতিবেশীদের৷
[সংস্থা খুলে কোস্ট গার্ডে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, পুলিশের জালে ২]
