দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস লড়াই। শেষপর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে এল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের ন্যাপথা পাইপলাইনের ভয়াবহ আগুন (Haldia Fire)। তবে ওই এলাকার পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ঠ উদ্বেগজনক বলেই প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। টানা আগুনের ফলে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। তাপের কারণে যাতে পাইপলাইন না ফাটে, নতুন করে কোনও বিপর্যয় না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল জল দিয়ে ঠান্ডা করার কাজ চলছে। দমকলের ইঞ্জিন, কর্মী ও আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ওই আগুন লেগেছিল। সেসময় কাজ করছিলেন কর্মীরা। আগুনে ঝলসে যান ১৯ জন কর্মী। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আগুন নেভাতে দ্রুত দমকল কর্মীরা উপস্থিত হন। দাউদাউ করে ওই আগুন জ্বলতে থাকে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের পাশ দিয়েই গিয়েছে রেললাইন। ফলে আগুনের কারণে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখনও ওই জায়গা দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে না। বুধবার সকাল থেকে হলদিয়া-হাওড়া লোকাল ট্রেন হাতিবেড়া থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। হলদিয়া দুর্গাচক স্টেশন থেকেই ট্রেন ছাড়া হচ্ছে। দূরপাল্লার আনন্দ বিহার এক্সপ্রেস বুধবার রাতে আসার কথা হলদিয়ার হাতিবেড়িয়ায়।
আগুনে মোট ১৯ জন জখম। একজন মারা গিয়েছেন। তাঁর নাম মানু বিবি। ডিউটিতে যাওয়ার জন্য ভোরে রান্না করতে গিয়ে তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন। জখমরা হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে তমলুক ও কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা ও বিধায়ক প্রদীপ বিজলি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে চিরঞ্জীবপুর অডিটোরিয়ামে ক্যাম্প করে রাখা হয়েছে। বাজ পড়া, শর্ট সার্কিট নাকি তেল চুরি? কী কারণে এই আগুন? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা ও বিধায়ক প্রদীপ বিজলি। হলদিয়া মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে চিরঞ্জীবপুর অডিটোরিয়ামে ক্যাম্প করে রাখা হয়েছে।
