৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর শঙ্করপুর থেকে রওনা দেওয়া ট্রলার বকখালিতে (Bakkhali) উদ্ধার হয় রবিবার। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ট্রলার থেকে উদ্ধার আরও ৪ মৎস্যজীবীর দেহ। গতকালই ৫ জনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল মোট ৯। এখনও নিখোঁজ ৬ জন। ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিক ও মৎস্যজীবীরা ট্রলারে ঢুকে তল্লাশি চালান। যদি কোনও দেহ মাছ ধরার জালে আটকে থাকে বা ভিতরে কোথাও আটকে থাকে তার খোঁজে তল্লাশি চলে। তবে অনুমান, দুর্ঘটনার মুহূর্তে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের কেউ কেউ গভীর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে যেতেও পারেন।
রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার সীতারামপুরে গিয়ে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের তল্লাশি অভিযানে তদারকি করেন রাতভর। মন্ত্রী জানান, গোটা ঘটনার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাও চলছে। উপস্থিত ছিলেন কাকদীপ মহকুমা প্রশাসন ও সুন্দরবন পুলিশ জেলার আধিকারিক, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার পুলিশ কর্মী এবং বন দপ্তরের অফিসাররা, বনকর্মী এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে বিজন মাইতি, সতীনাথ পাত্র সহ অন্যান্যরা।
রাতেই ঘটনাস্থলে সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা।
জানা গিয়েছে, দিঘার শংকরপুর বন্দর থেকে গত ২ জুলাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ‘মা কালী’ ট্রলারটি। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বনদপ্তর ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। শনিবার থেকে উদ্ধার অভিযান চলে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর চিত্রক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে। অভিযানে অংশ নেন রামগঙ্গা রেঞ্জের রেঞ্জার কবীর হোসেন-সহ বনদপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক, বনকর্মী এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ আধিকারিকরা। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে চুলকাঠির জঙ্গলের কাছে বাঘেরচরে উলটে থাকা অবস্থায় ট্রলারটি মেলে। বনদপ্তর, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানা, সুন্দরবন পুলিশ, উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের যৌথ অভিযানে ট্রলারটি উদ্ধার করে সন্ধ্যেয় পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরের সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাতে তল্লাশি চালাতেই একে একে উদ্ধার হয়েছে ৯ মৎস্যজীবীর দেহ।
