তোলাবাজি, হুমকি ও মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ তো রয়েছেই। তার উপর আবার কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়ার বুড়িমার প্রণামী ও সোনার গয়নাগাটি তছরূপের অভিযোগ। তার ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর গৌতম ঘোষকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণনগর শহরে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন গৌতম ঘোষ। তৃণমূল সরকারের সময়ে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বলেও স্থানীয় মহলে আলোচনা ছিল। সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তোলাবাজি, হুমকি ও মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। গৌতম ঘোষ কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী চাষাপাড়া বারোয়ারি এবং জগদ্ধাত্রী পুজোর ‘বুড়িমা’ পুজো কমিটির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। চাষাপাড়া বারোয়ারির কমিটির অন্যতম সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেই সময় টাকা ও গয়নাগাটি চুরি করেন তৃণমূল নেতা। কিছুদিন আগে বুড়িমা পুজো কমিটিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এবং সেই কমিটি থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।
বুধবার দুপুরে গৌতম ঘোষকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। হাসপাতাল থেকে বের করার সময় আচমকাই কয়েকজন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভও হয়। এরপর নদিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হয় তাকে। বিচারক ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারিতে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
