মাদক বিক্রি নিয়ে গন্ডগোলের জের। দুই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে লড়াই। এলাকায় চলেছে গুলি। এই ঘটনায় আহত ১। এলাকায় শান্তি ফেরাতে নেমেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দুষ্কৃতিদের খুঁজতে শুরু হয়েছে তল্লাশি।
জানা গিয়েছে, এলাকায় মাদক বিক্রি নিয়ে গন্ডগোলের জেরে দুই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে লড়াই। যার জেরে চলেছে গুলি। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক দুষ্কৃতী। শুধু তাই নয়, দুষ্কৃতীদের একটি দল মঙ্গলবার রাতেও এলাকায় ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। একই সঙ্গে হয়েছে বোমাবাজি এবং ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন।
ধারালো অস্ত্রের কোপে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাড়ির দরজা। আর দুই দুষ্কৃতী দলের এই গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরেই গত রবিবার রাত থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছে উত্তর হাওড়ার (Howrah) ওড়িয়াপাড়া ও নন্দীবাগান এলাকায়। ঘটনার পরই এই দুই এলাকায় ছুটে যায় গোলাবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দুষ্কৃতীদের খোঁজে দুই এলাকায় টহল দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর হাওড়ার (Howrah) ওড়িয়াপাড়ার সনাতন মিস্ত্রি লেন ও নন্দীবাগানের ভৈরব দত্ত লেনের সরু গলির ভিতরে মাদক বিক্রি নিয়ে ছোটু ও পাঁচু নামে দুই দুষ্কৃতীর মধ্যে লড়াই হয়। গত রবিবার গভীর রাতে ওড়িয়াপাড়ার সনাতন মিস্ত্রি লেনে পাঁচু বহিরাগত দুই দুষ্কৃতী রাজ পান্ডে ও সুচিত সিংকে নিয়ে এসে ছোটুর উপর হামলা চালায়। ছোটুর দলে থাকা তপন বারিকের উপর গুলি চালায় রাজ ও সুচিত। গুলি চালনার পরই রাজ ও সুচিত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তপন গুরুতর আহত অবস্থায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ছোটুকে মাদক ব্যবসায় আর্থিক সাহায্য করে এলাকার আরেক কুখ্যাত দুষ্কৃতী অবিনাশ ঘোষ। ছোটুর দলের ছেলে তপনের গুলি লেগেছে জানতে পেরে অবিনাশ মঙ্গলবার রাতে উত্তর হাওড়ার নন্দীবাগানের ভৈরব দত্ত লেনে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে গিয়ে পাঁচুর বাড়ি ও তার আশপাশের বাড়িতে ব্যাপক হামলা চালায়। রীতিমতো ধারালো অস্ত্র নিয়ে গিয়ে বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। আর দুই দুষ্কৃতী দলের এই লড়াইতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সরু গলির ভিতরে ঘিঞ্জি এলাকায় থাকা বাসিন্দারা দুষ্কৃতীদের তান্ডবে রীতিমতো আতঙ্কিত। এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানালেন, "এরা প্রত্যেকেই এলাকার পুরোনো দুষ্কৃতী। এদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ও একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এরা প্রত্যেকে পলাতক। এদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। খুব শীঘ্রই এদের ধরা হবে।" প্রসঙ্গত, অবিনাশ ছোটু ও পাঁচু এই দু'জনকেই মাদক বিক্রির জন্য আর্থিক সাহায্য করে। পরে ছোটু ও পাঁচু দু'জনে আলাদা হয়ে যায়। তখন অবিনাশ পাঁচুকে ছেড়ে দিয়ে ছোটুকেই মাদক ব্যবসার জন্য আর্থিক সাহায্য করতে থাকে। ফলে বর্তমানে ছোটু ও অবিনাশের এক গোষ্ঠী। অপরদিকে পাঁচুর অন্য এক গোষ্ঠী।
