হাওড়ার পিলখানায় খুনের (Howrah Shootout) ঘটনার ৮দিন পর দিল্লি থেকে ধরা পড়লো এই ঘটনার অন্যতম মূল ২ অভিযুক্ত হারুন খান ও রফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত। হাওড়া সিটি পুলিশ ও দিল্লি পুলিশের যৌথ বাহিনী গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ও বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দিল্লির জামা মসজিদ এলাকার একটি হোটেল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১১টা নাগাদ গ্রেপ্তার করে ২ জনকে। আজ শুক্রবার ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে হাওড়ায় নিয়ে আসার কথা।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা পিলখানা সেকেন্ড বাই লেনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বিরোধী গোষ্ঠীর দুষ্কৃতী মহম্মদ শফিককে হারুন এবং রোহিত ২ জনে মিলে গুলি (Howrah Shootout) করে খুন করে। এরপরেই দ্রুত এলাকা ছাড়েন দুই অভিযুক্ত। ঘটনার পরই মূল অভিযুক্ত এই ২ জনের খোঁজে পুলিশ ও সিআইডি ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ২ জনকে পাকড়াও করে পুলিশ।
এই দুই মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার হাওড়ার গোলাবাড়ি থানায় হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে হাওড়া সিটি পুলিশের এসিপি নর্থ শেখ হাবিবুল্লা বলেন, ‘‘গোলাবাড়ি থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ৪ টি দল তৈরি করে ভিনরাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে মূল অভিযুক্তদের ধরে। ধৃতদের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে।’’
এসিপি নর্থ আরও বলেন, ‘‘খুনের পর ২ জন প্রথমে হাওড়া থেকে কলকাতায় পালায়। সেখান থেকে বিহার ও তার পর দিল্লিতে পালায়। মোবাইল ফেলে দিয়ে বিভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করে এরা ২ জন পালায়। কিন্তু পুলিশ গোপন সূত্রকে কাজে লাগিয়ে ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দিল্লি পুলিশের সাহায্য নিয়ে এদের ধরে।’’ প্রসঙ্গত, খুনের ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গত বুধবার গভীর রাতে কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল হাওড়া সিটি পুলিশ। ধৃতরা হল মহম্মদ বিল্লাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না ও দিলদার হোসেন। এরপর গত শুক্রবার রাতে মহম্মদ আসলাম নামে আরও এক যুবককে নাদিয়াল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন পুলিশ জানায় এই ৪ জন ধৃত মূল অভিযুক্ত হারুন এবং রোহিতকে খুন করতে ও খুনের পর পালাতে সাহায্য করেছে। এক ধৃতের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ও ২টি গুলিও উদ্ধার হয়েছিল।
একইসঙ্গে গত শুক্রবারই এই খুনের ঘটনার তদন্তভার পায় সিআইডি। গত শনিবার সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে তদন্ত শুরু করে। তখনই হাওড়া সিটি পুলিশের চারটি দল ভিনরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার হাওড়া সিটি পুলিশের জালে পড়লো দুই মূল অভিযুক্ত। এবার হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে ধৃতদের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তদন্ত করবে হাওড়া সিটি পুলিশ ও সিআইডি।
