ফের ভারত-চিন সীমান্তে দাবানল! জঙ্গলের গভীরে লাগা ভয়াবহ আগুনের সঙ্গে মাইন ফাটার বিকট শব্দ! তাতে বারবার কেঁপে উঠছে মাটি। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। থাম্বি ভিউ পয়েন্টের পর এবার পূর্ব সিকিমের কুপুপ গ্রামের কাছে উঁচু সীমান্ত এলাকায় ঠিক 'জিরো লাইন'-এর কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। পাশেই ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ছাউনি। সেখানে গোলা, বারুদ মজুত থাকে। আর সেই সেনা ছাউনির পাশেই এই দাবানলের ঘটনায় আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি ওই এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে প্রথম আগুন লাগার খবর মেলে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় যদিও দ্রুত সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। যদিও এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগে ১৮ জানুয়ারি নাথু-লা সীমান্তের কাছে থাম্বি ভিউ পয়েন্টে একই ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বারবার ভারত-চিন সীমান্তের বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রীতিমতো বাড়ছে উদ্বেগ। যদিও সেনাবাহিনী এর কারণ হিসেবে শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় জঙ্গলের গাছগাছালি শুকিয়ে যাওয়া এবং শুকনো পাতায় ভরে থাকা এবং তীব্র বাতাসকে দায়ী করেছে। তবে ২০ জানুয়ারী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ভারত-চিন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ছাউনিরর কাছাকাছি হওয়ায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, একে শুষ্ক আবহাওয়া এবং তার উপর তীব্র বাতাসের জন্য আগুন দ্রুত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই উঁচু ছিল যে নাথু-লা থেকেও দেখা গিয়েছে। হিমেল বাতাসে কালো ধোঁয়া মিশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। তার উপর ঘটনাস্থল থেকে মুহুর্মুহ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। প্রথমে অনেকেই মনে করছেন ফের সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যদিও পরে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুনের তাপে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের জন্য ওই বিকট শব্দ হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এবং গ্রামবাসীদের চেষ্টায় আগুন জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ছাউনি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
