এসআইআর করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে বিজেপি! দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এসবের মাঝেই মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়ায় এক বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৪ হাজার এসআইআরের ফর্ম ৭। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। নবান্ন থেকে সেই ফর্মের ছবি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফের দাবি করলেন নাম বাদের চক্রান্ত করছে বিজেপি।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়ার সিনেমা মোড়ে একটি গাড়ি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের। গাড়িটিকে ধাওয়া করে দাঁড় করাতেই চক্ষুচড়কগাছ। উদ্ধার হয় প্রায় ৪ হাজার ফর্ম ৭ (নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র)। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে গাড়িতে থাকা তিনজন চম্পট দেয়। তবে ২ জনকে আটক করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পাঁচজনই বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত এলাকায়। ধৃতদের মধ্যে একজন বিজেপির তালডাংরা বিধানসভার বিবরদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন মণ্ডল সভানেত্রী ঝুমা ঘোষের স্বামী প্রবীর ঘোষ। মঙ্গলবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে উদ্ধার হওয়া ফর্মের ছবি দেখান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, "এই দেখুন এটা আমার কাছে এসেছে। এটা হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি। এভাবেই নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।"
এবিষয়ে বিজেপিকে একহাত নিয়েছেন তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায়। তাঁর কথায়, “ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। হাজার হাজার ফর্ম ৭ আগে থেকেই পূরণ করে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা কোনওভাবেই সাধারণ ঘটনা নয়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে তদন্ত করা।” রানিবাঁধের তৃণমূল বিধায়ক জোৎস্না মাণ্ডিরও একই সুর। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। গরিব, আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার নীলনকশা স্পষ্ট। আমরা চাই, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
প্রসঙ্গত, কী এই ফর্ম ৭? ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করতে, মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে ব্যবহৃত হয় এই ফর্ম। এভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলেই দাবি।
