বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ রাজনীতির পরতে পরতে উত্তেজনা। তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তেই ভরতপুরের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন। তার নাম 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'। দল গড়েই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে শতাধিক আসনে লড়াইয়ের কথা বলেছেন তিনি। তারই প্রচার হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বড়সড় জনসভার ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, দিনক্ষণও ঠিক করেছিলেন। কিন্তু হুমায়ুনের দলকে ব্রিগেডে সেই সভার অনুমতি দিল না সেনা। শুক্রবার অনুমতি না পেয়ে হুমায়ুনের হুঙ্কার, ''মুর্শিদাবাদেই ১০ লক্ষ জমায়েত করব।''
গত ডিসেম্বরে ব্রিগেডে আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠন সনাতনী সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করে। তখনই হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, ব্রিগেডে ১০ লক্ষ কণ্ঠে কোরাণপাঠের আয়োজন করবেন। সেই মর্মে সেনার কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। কিন্তু শুক্রবার সভার অনুমতি না পেয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে আমরা আবেদন করেছিলাম। শুক্রবার আমাদের দেখা করতে বলা হয়েছিল। সেইমতো আমাদের জনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে সেনার দপ্তরে গিয়ে দেখা করা হয়। কিন্তু তারা সাফ জানিয়েছে, ব্রিগেডে কোনও রাজনৈতিক সভার অনুমতি দেওয়া হবে না। বিকল্প হিসাবে শহিদ মিনারের প্রস্তাব দেয় সেনা। তাতে আমাদের আপত্তি আছে। এত লোককে নিয়ে শহিদ মিনারে জমায়েত করা যাবে না। এখন আমাদের নজর থাকবে, ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে ব্রিগেডে সভার জন্য অনুমতি দেওয়া হয় কি না।’’
এর নেপথ্যে তৃণমূল ও বিজেপিকে যৌথভাবে আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবীর। এরপরই তাঁর হুঙ্কার, ১ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদেই ৫০ বিঘা জমিতে বড় জমায়েত হবে। আসলে নিজের দল গঠনের পর থেকে তৃণমূল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে নানা কটাক্ষ ধেয়ে এসেছিল জনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে। তাই নিজের শক্তি প্রদর্শনে ব্রিগেডে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সেই ঘোষণা অনুযায়ী কর্মসূচি আর হল না। এখন দেখার, ১ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদের বুকে কী করেন তিনি।
