তিন সন্তানের বাবা, চার সন্তানের মায়ের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত! স্ত্রী পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে থানার সামনে ব্যাপক মারধর। মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ 'গুণধর' স্বামীর বিরুদ্ধে। আক্রান্ত মহিলার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে যুবককে আটক করেছে পুলিশ। স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং থানার সামনে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানিং (Canning) থানা এলাকার বাসিন্দা চন্দন সর্দার। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় প্রতিবেশী মৃদুলার। দম্পত্তির তিন পুত্র সন্তান রয়েছে। চন্দন কাজের সূত্রে কলকাতায় যাতায়াত করেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় কুলতলি থানা এলাকার বাসিন্দা গঙ্গা নামে এক গৃহবধূর। ওই বধূর আবার চার সন্তান। ক্রমশ তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই খবর যায় মৃদুলার কাছে। এরই মধ্যে শনিবার গঙ্গা নিজের বাপের বাড়ি গোপালপুরে আসেন। সে কথা জানতে পেরে সেখানে হাজির হন চন্দন। তাঁরা ঘনিষ্ঠ হন বলে দাবি। দু'জনকে আপত্তিজনক অবস্থায় ধরে ফেলেন প্রতিবেশীরা। চন্দন ও গঙ্গাকে গণধোলাই দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুধু ওই গৃহবধূ নয়, আরও অনেক মহিলার সঙ্গে চন্দনের সর্ম্পক রয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পরই ক্যানিংয় থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে যান মৃদুলা। অভিযোগ, সেই সময় স্ত্রীকে ভুলিয়ে বাইরে নিয়ে যান চন্দন। তারপরই বেরিয়ে আসে আসল 'রূপ'। অভিযোগ মারধর করা হয় মৃদুলাকে। তাঁর মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আক্রান্ত হওয়ার পর মৃদুলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশে মৌখিক অভিযোগ করে। ক্যানিং (Canning) থানার পুলিশ চন্দনকে আটক করেছে। আক্রান্ত মৃদুলা বলেন, "আমি স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট। একাধিক মহিলার সঙ্গে ওর দৈহিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকী পতিতালয়েও যায়। সৎ পথে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি,হয়নি। শনিবার গঙ্গার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পাড়ার লোক ধরে ফেলে। উত্তম মধ্যম দেয়। তারপরও সব সহ্য করে বলেছিলাম সৎ পথে ফিরে আসার জন্য। উলটে আমাকে মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।" ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
