বাড়ি বাড়ি গিয়ে সারাতেন রেডিও, টিভি। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় তড়তড়িয়ে বেড়েছে সাম্রাজ্য। একেবারে গোড়ার দিকে পেয়েছিলেন কালনা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদ। পরে তিনিই হন চেয়ারম্যান। তৃণমূলের সিঁড়ি বেয়ে বছর কয়েকের মধ্যেই বিধায়ক পদ। তারপর চোখের নিমেষেই একেবারে রাজপ্রাসাদের মালিক। সোমবার রাতে সেই প্রাসাদেই অভিযান চালিয়ে একেবারে হাতেনাতে দেবপ্রসাদকে হাতেনাতে ধরে পুলিশ। অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি থেকে ত্রাণসামগ্রী নিজের বাড়িতে মজুত করে রাখতেন তিনি।
শুধু বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো ডেকোরেশনই নয়, বিলাস বহুল অট্টালিকায় আকাশছোঁয়া দামি আসবাবপত্র। তাক লাগানো অন্দরমহলের সাজসজ্জা। এখানেই শেষ নয়, বাড়ির ভিতরেই নাকি ছিল গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড ঘর।
একসময় কোনওরকমে সংসার চালানো দেবপ্রসাদ ওরফে পল্টু তৎকালীন শাসকদলের ছায়ায় আসতেই প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। বিধায়ক হওয়ার পর আচমকাই ঝাঁ চকচকে বাড়ির মালিক হয়ে উঠলেন। এলাকার লোকজন হাঁ করে তাকিয়ে থাকত সেই অট্টালিকার দিকে। শুধু বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো ডেকোরেশনই নয়, বিলাস বহুল অট্টালিকায় আকাশছোঁয়া দামি আসবাবপত্র। তাক লাগানো অন্দরমহলের সাজসজ্জা। এখানেই শেষ নয়, বাড়ির ভিতরেই নাকি ছিল গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড ঘর। এছাড়াও বাড়ির ছাদে ওয়াটার ফিল্টারের জলে স্নানের রাজকীয় ব্যবস্থা। অল্প দিনেই মেকানিক থেকে শেহনশাহ হয়ে ওঠার নেপথ্যে কেন রহস্য?
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই দেবপ্রসাদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। তৎকালীন বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ও সম্পত্তির বহর বারবার প্রশ্নের মুখে উঠলেও রাজনৈতিক দাপটে কেউ মুখ খুলতে ভয় পেতেন। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর কালনার প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে শুরু করেছেন এলাকাবাসীরা।
সোমবার গভীর রাতে দেবপ্রসাদ বাগের প্রাসাদে হানা দেয় কালনা থানার পুলিশ। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির দরজা বন্ধ করে বসেছিলেন দেবপ্রসাদ। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়েই পুলিশের খপ্পরে ধরা পড়েন।
পুলিশ সূত্রে খবর, সরকারি সম্পত্তি নিজের বাড়িতে মজুত করে রেখেছিলেন দেবপ্রসাদ। ত্রাণ সামগ্রী থেকে খেলার সামগ্রী বাড়িতেই লুকিয়ে রাখা ছিল। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই সোমবার গভীর রাতে দেবপ্রসাদ বাগের প্রাসাদে হানা দেয় কালনা থানার পুলিশ। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির দরজা বন্ধ করে বসেছিলেন দেবপ্রসাদ। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়েই পুলিশের খপ্পরে ধরা পড়েন। প্রথমে তাঁকে আটক করা হলেও পরে গ্রেপ্তার করা হয় কালনার প্রাক্তন বিধায়ককে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন কালনা-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায়ও। জানা যায়, এই কালনার ধৃত বিধায়ক দেবপ্রসাদ তাঁকে গুরু হিসেবে পরিচয় দিতেন। গুরুশিষ্যের কারসাজিতে কীভাবে দিনের পর দিন সরকারি সামগ্রী আত্মসাতের ছক? কী উদ্দেশে লাখ লাখ টাকার সামগ্রী মানুষের মধ্যে বণ্টন না করে বাড়িতে মজুত? এর সঙ্গে আর কার যোগ রয়েছে? তা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।
