আগামী ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। এই সময় দূরদূরান্ত থেকে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে তারাপীঠে (Tarapith)। বিপুল এই ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এবং হোটেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বড়সড় ইঙ্গিত বীরভূম জেলা প্রশাসনের। যেসব হোটেলে ছোটখাটো ত্রুটি বা কাগজপত্র সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে সেগুলি কৌশিকী অমাবস্যার আগেই চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ও শর্ত পূরণের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের লক্ষ্য, কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে আসা কোনও ভক্ত যাতে পরিষেবা, যাতায়াত, থাকা বা নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যায় না পড়েন। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন দপ্তরকে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হাতে বেশি সময় নেই। আগামী ৮ দিন পরই কৌশিকী অমাবস্যা। তার আগে সোমবার সন্ধ্যায় তারাপীঠে বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে গত কয়েকদিন আগেই বীরভূম সফরে গিয়ে তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় জোর দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই ভক্তদের সুবিধা ও নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ, রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা-সহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রশাসনের আধিকারিকরা। ছবি - সুশান্ত পাল।
বৈঠক শেষে হোটেল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরে ধ্রুব সাহা জানান, তারাপীঠের কিছু হোটেলে ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে। সেই হোটেলগুলির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। তাঁদের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে কৌশিকী অমাবস্যার সময় পরিষেবা চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের জন্য আগামী তিন মাস সময় দেওয়া হবে। বিধায়কের এই বক্তব্যের ফলে কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠের হোটেল পরিষেবা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। তাঁদের থাকার জন্য হোটেল, লজ ও অন্যান্য আবাসনের উপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। ফলে কোনও কারণে একাধিক হোটেল বন্ধ থাকলে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রশাসনিক বৈঠকে তাই হোটেল সংক্রান্ত বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড থেকে তারাপীঠে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া বা কোনও ধরনের প্রতারণা যাতে না ঘটে, সেদিকেও নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শুধু পরিষেবা ও নিরাপত্তা নয়, কৌশিকী অমাবস্যাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেও একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তারাপীঠের বিভিন্ন এলাকায় আলোকসজ্জা, এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার, গঙ্গারতি, বাউল গান, রবীন্দ্রসংগীত এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির নানা আয়োজন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকা থেকেও যাতে ভক্তরা অনুষ্ঠান দেখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই রামপুরহাট সংলগ্ন মুনসুভা মোড় পর্যন্ত এলইডি ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারে পুষ্পবৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে আসা কোনও ভক্ত যাতে পরিষেবা, যাতায়াত, থাকা বা নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যায় না পড়েন। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন দপ্তরকে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই হোটেলগুলির ক্ষেত্রে ধ্রুব সাহার তিন মাস সময় দেওয়ার ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন কৌশিকী অমাবস্যার সময় পর্যাপ্ত আবাসন পরিষেবা বজায় রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদেরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিয়মকানুন সম্পূর্ণ করার সুযোগ মিলবে।
