সঞ্জীব মণ্ডল, শিলিগুড়ি: ফের লোকালয়ে প্রবেশ করল চিতা। ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানা এলাকার আড়াই মাইলে। চিতার হানায় এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক। ঘটনাস্থলে মোতায়েন বনবিভাগ ও পুলিশকর্মীরা। একাধিকবার দেখা গেলেও এখনও খাঁচাবন্দি করা যায়নি প্রাণীটিকে।
[হিংসাকে আটকাতে হিংসারই দরকার, ফের বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ]
জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে সেবক রোডের পাশে একটি বাজারে প্রথম দেখা মেলে চিতাটির। একটি শপিংমলের পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল প্রাণীটি। খবরটি চাউর হতেই ব্যস্ত বাজার এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানায়, বাজারে বেশ কিছু গুদামঘরের ছাদে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে চিতাটিকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনবিভাগ ও পুলিশকর্মীরা। রাতেই সার্চলাইট এনে শুরু হয় তল্লাশি। তবে কিছুতেই পাকড়াও করা যায়নি প্রাণীটিকে। বৃহস্পতিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে অভিযান। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন দপ্তর সূত্রে খবর, চিতাটি বৈকুন্ঠপুর জঙ্গল থেকে এসেছে। খাবারের সন্ধানেই লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে প্রাণীটি। ইতিমধ্যে ঘুমপাড়ানি গুলি ও খাঁচা নিয়ে প্রস্তুত বন দপ্তরের কর্মীরা। চিতাটিকে খাঁচাবন্দি করে জঙ্গলে ছেড়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঘটনাস্থলে রয়েছেন শিলিগুড়ি ডিভিশনের ডিএফও উমা রানি। তিনি জানিয়েছেন, চিতাটিকে ধরার চেষ্টা চলছে। আপাতত জঙ্গলের দিকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে সেটিকে। তবে প্রয়োজনে সেটিকে খাঁচাবন্দি করা হবে। উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ক্রমশই বাড়ছে মানুষ ও পশুর সংঘাত। বিশেষজ্ঞদের দাবি, জঙ্গলে থাবা বসিয়েছে শহর। ফলে খাবারের অনটনে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্যপ্রাণীরা। কয়েকদিন আগেই আলিপুরদুয়ারের রায়ডাক চা-বাগানে চিতাবাঘের হামলার মুখে পড়েন দুই শ্রমিক। শিশুশিক্ষা ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে দাঁতাল হাতি। এর ঘটনার কয়েকদিন আগেই মালবাজারে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারান এক ব্যক্তি। আলিপুরদুয়ারে ছড়ায় বাইসনের আতঙ্ক। সব মিলিয়ে জঙ্গল সংকীর্ণ হয়ে আসায় বন্যপ্রাণীর হামলা ক্রমশই বাড়ছে।
[আরপিএফ জওয়ানদের বদলিতে বেনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে মেট্রোর নিরাপত্তা]
The post বাজারে চিতাবাঘের হানা, তীব্র আতঙ্ক শিলিগুড়িতে appeared first on Sangbad Pratidin.
