রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে ডিম হামলা। তা এখন আর রাজনীতির অলিন্দে সীমাবদ্ধ নেই। সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের এই ধরণ। প্রতিবাদের নতুন এই রূপ নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও হয়েছে। এবার ডিম হামলা ঠেকাতে মাইক হাতে রাস্তায় নামতে দেখা গেল পুলিশকে। আজ ডানকুনি (Dankuni) পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় ডিম ছুড়ে মারে এলাকাবাসী। এলাকায় জল জমার প্রতিবাদে কাউন্সিলরকে আরও ডিম ছুড়বেন বলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। সেই সময়ই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের সাফ কথা, প্রতিবাদের নামে কোনও হুজ্জুতি বরদাস্ত করা হবে না।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রতি বছর বর্ষায় ডানকুনির বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন জলমগ্ন হয়ে থাকে। এ বছরও তার অন্যথা হয়নি। বিশেষ করে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বর্ষার জল দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকায় দুর্গন্ধে এলাকার মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী সময় থেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান বেপাত্তা। তাই এলাকার জঞ্জাল সাফাই থেকে শুরু করে পৌরসভার প্রতিদিনের কাজ কার্যত লাটে উঠেছে। সব থেকে বেশি দুর্ভোগের শিকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দারা। সেই কারণে তাঁরা আজ একত্রিত হয়ে কাউন্সিলরের বাড়ি ঘেরাও করেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চলাকালীন তর্কাতর্কির মধ্যে কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় ডিম ছুড়ে মারে এলাকার বাসিন্দারা। সংবাদমাধ্যমের সামনেও তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেন। খবর পেয়ে ডানকুনি থানার আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনরকমে কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কাউন্সিলরকে আরও ডিম ছোড়ার উদ্দেশে তাঁর বাড়ির সামনেই ভিড় করে ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই সময় ডানকুনি থানার আইসি শান্তনু সরকার মাইক হাতে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন। তিনি নিজে এগিয়ে এসে এলাকা ফাঁকা করার কাজ করেন। তিনি বলেন, "ডানকুনি এখনও পর্যন্ত সভ্যতা ভদ্রতার পরিচয় দিয়ে এসেছে। তা বজায় রাখুন। এখানে হুজ্জুতি করবেন না। যাঁর যা অভিযোগ আছে তা নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করুন। আমাকে একটা ডিম মেরে দেখুন। ডিম মারলে জলের সমস্যা মিটে যাবে না।"
