shono
Advertisement

গুলি-অগ্নিসংযোগ, শিলদার EFR ক্যাম্পে চরম নৃশংসতা মাওবাদীদের, ফিরে দেখা ‘অভিশপ্ত’ দিন

১৪ বছর আগে মাওবাদী হামলায় শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে প্রাণ যায় ২৪ জনের।
Posted: 06:10 PM Feb 27, 2024Updated: 06:40 PM Feb 27, 2024

সুনীপা চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রাম: ১৪ বছর আগে মাওবাদী হামলায় শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে প্রাণ যায় ২৪ জনের। মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। আজ স্মৃতিতে টাটকা অভিশপ্ত দিনের কথা। ঠিক কী হয়েছিল সেদিন?

Advertisement

২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ঘটনার দিন দুপুর নাগাদ জওয়ানরা টহল সেরে ক্লান্ত শরীরে ক্যাম্পে ফিরেছেন। কেউ বা বিশ্রাম নিচ্ছেন। সেই সময় মাওবাদীদের মহিলা স্কোয়াডের কয়েক জন এজেন্ট নাচনি সেজে সবজি বিক্রি করতে ক্যাম্প চত্বরে প্রবেশ করেছিল। শিলদার ওই পাঁচিল দেওয়া ইএফআর ক্যাম্পে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশ দিয়ে ঢোকা এবং বের হওয়ার রাস্তা ছিল একটাই। ওই পথ দিয়ে মাওবাদী এজেন্টরা সবজি বিক্রির ছলে এবং নাচ গান করে আদতে রেইকি করে গিয়েছিল ক্যাম্পের অবস্থান, খুটিনাটি দিক গুলি। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ ২৫-৩০ জনের মাওবাদী দলটি হমলা চালায়। সেই সময় জওয়ানদের রাতের রান্নার প্রস্তুতি চলছিল।অনেকে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।মাওবাদীদারা প্রথমেই ক্যাম্পটিতে আগুন লাগিয়ে জওয়ানদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি করে। কার্যত অমানবিকভাবে জওয়ানদের পুড়িয়ে গুলি করে মারা হয়।

[আরও পড়ুন: ‘হিরো’ সাজা বাইকচালকদের সতর্কবার্তা, রোহিতের বার্তা হাতিয়ার রাজ্য পুলিশের]

তার মধ্যেও জওয়ানরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। তাদের ছোড়া গুলিতে পাঁচ মাওবাদী নিহত হয়। সেই দেহগুলি মাওবাদীরা নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। ৭৪ টি অতি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র তারা লুট করে নিয়ে যায়। ওই দিনের ওই ঘটনায় দু-চার জন জওয়ান কোন মতে প্রানে বেঁচে ছিলেন। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে। আগুন না নেভা পর্যন্ত উদ্ধার কার্য শুরু করা যায় নি। ক্যাম্পের ভিতরে বিস্ফোরক থাকার সম্ভাবনার কথা ভাবা হয়েছিল। পরদিন ভোরে একে একে অঙ্গারে পরিণত দেহগুলি উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

অভিশপ্ত সেই দিনের ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন স্থানীয় মানুষ জন বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি কেবল আতঙ্কে। আতঙ্ক ছিল এতটাই যে দোকানবাজারও ছিল বন্ধ। এখন সেই সব দিন ভুলে মানুষ বাস করছে শান্তিতে। শিলদা এলাকা এখন আরও জনবহুল। বাজার, দোকানে ছয়লাপ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশের ফাঁকা জায়গাটা বাইরে থেকে বোঝাই যায় না। ওই ঘটনার পর বেশ কয়েক বছর ইএফআর ক্যাম্পের অদূরে ছিল সিআরপিএফের অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেখানেই তৈরি হয়েছে স্থায়ী স্ট্রাকো (specially Trained Armed Company)ক্যাম্প।

২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর নিয়ম করে জেলা পুলিশ নিহত শহিদ ২৪ জন ইএফআর জোয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। হয় শোক প্যারেড ওই ঘটনাস্থলে। স্ট্রাকো ক্যাম্পে হয়েছে শহিদ মিনার। ওই চব্বিশ জন জওয়ানদের নাম, ছবি সম্বলিত ২৪টি মেহগানি গাছ লাগানো হয়েছিল। সেগুলি আজও তাদের স্মৃতি বহন করে চলছে। ১৪ বছর পর মেদিনীপুর আদালতে শিলদা কাণ্ডে ২৩ জন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবরে খুশি এলাকার মানুষজন। শিলদার স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত কর্মকার, টোটন দত্তরা বলেন “সেই দিনের কথা আজও মনে আছে। কি ভয়াবহ অবস্থা। গুলি চলছে, আগুন জ্বলছে।মানুষ জন দোকান ছেড়ে পালাচ্ছে। শুনশান চারিদিক। পুলিশে ছয়লাপ। তারপরও বেশ কয়েক দিন আতঙ্ক ছিল। এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো। যারা অন্যায় করেছে অপরাধ করেছে তারা সাজা পাবে।”

[আরও পড়ুন: কোর্টের স্থগিতাদেশের পরদিনই সন্দেশখালিতে অশান্তি! নিজের অবস্থানে অনড় অভিষেক]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার