বধূ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল আগেই। স্ত্রী নিজে ওই অভিযোগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দল থেকে তাড়িয়েছে কংগ্রেস (Congress Expelled Victor)। এবার নতুন কেরিয়ারের সন্ধানে নামলেন উত্তর দিনাজপুরের নেতা আলি ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টর। সূত্রের খবর, অন্তত তিনটি দলের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন। দর কষাকষি চলছে। ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে বিজেপি অর্থাৎ বাম ঘেঁষা জাতীয়তাবাদী থেকে চরম ডানপন্থী - মেরুর দুই প্রান্তেই দর বুঝছেন ভিক্টর। 'হাত'ছাড়া কংগ্রেস নেতা এবার কোন প্রতীকে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করেন, সেটাই দেখার।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ভিক্টর প্রথমেই পুরনো দল অর্থাৎ ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পুরনো দলকে তাঁর প্রস্তাব, উত্তর দিনাজপুরের জেলা সম্পাদকের পদটি দিলে তিনি এখনই ফরওয়ার্ড ব্লকে চলে আসবেন। নেতৃত্বের পালটা শর্ত, ভিক্টর একা এলে হবে না। যে পৃথক মঞ্চ করে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন, তার সব নেতাকে ফেরাতে হবে। সেইসঙ্গে কংগ্রেসের একদল কর্মীকেও টেনে আনতে হবে বাম দলটিতে।
আদিতে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা ছিলেন চাকুলিয়ার ভিক্টর। পরে কংগ্রেসে যোগ দেন। অধীররঞ্জন চৌধুরী ঘনিষ্ঠ ভিক্টর পরবর্তী সময়ে শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেসকে সেভাবে মানতে চাইছিলেন না। মতান্তর বাড়তে থাকে। একাধিক দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় প্রদেশ কংগ্রেস। গত ২৭ জুলাই দল থেকে অবশেষে বিতাড়িত করা হয় আলি ইমরান রামজকে। এরই মাঝে অবশ্য স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী তাঁর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সোজা রাহুল গান্ধীর দ্বারস্থ হন। ছিল আর্থিক তছরূপের অভিযোগও। সেই মামলায় ফেঁসে রয়েছেন। এবার কোন রাজনৈতিক সিঁড়ি ধরে সবটা সামাল দিতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত ভিক্টরের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলির, ফাইল ছবি
সূত্রের খবর, কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ভিক্টর প্রথমেই পুরনো দল অর্থাৎ ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পুরনো দলকে তাঁর প্রস্তাব, উত্তর দিনাজপুরের জেলা সম্পাদক পদটি দিলে তিনি এখনই ফরওয়ার্ড ব্লকে চলে আসবেন। নেতৃত্বের পালটা শর্ত, ভিক্টর একা এলে হবে না। যে পৃথক মঞ্চ করে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন, তার সব নেতাকে ফেরাতে হবে। সেইসঙ্গে কংগ্রেসের একদল কর্মীকেও টেনে আনতে হবে বাম দলটিতে।
এই দর কষাকষি শুধু ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গেই নয়, আরও তিনটি দলেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভিক্টর। একুশের ভোটের আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মিম। গোটা রাজ্যে ভোটের খরচ বাবদ ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই মিমের সঙ্গে এখন নতুন করে তাঁর কথা হয়েছে বলে একটি মহলের দাবি। এছাড়া আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি ও আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন ভিক্টর। বিজেপির এক মন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর গোপন বৈঠক হয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলে গুঞ্জন। এখন প্রশ্ন একটাই, ফরওয়ার্ড ব্লক, কংগ্রেস ঘুরে ফের কোন দলে ঠাঁই পাবেন ভিক্টর?
