shono
Advertisement
CM Suvendu Adhikari

খুনিদের ফাঁসি নিশ্চিত! বাগনানে তৃণমূলের হাতে খুন বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

গত ১৭ জুন রাতে বিজেপি কর্মীকে প্রশান্ত দে খুন হন, ফোনে বলা হয়, 'মার্ডার করে দিয়েছি।'
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:48 PM Jun 27, 2026Updated: 07:13 PM Jun 27, 2026

ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের আস্ফালনের শিকার হয়েছেন শাসকশিবিরের কর্মীরা। হাওড়ার বাগনানের প্রশান্ত দে তেমনই এক নাম। গভীর রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুনের পর ফোনে নির্বিকার চিত্তে খুনি জানিয়েছিল, ''মার্ডার করে দিয়েছি, নিয়ে যা।'' ভয়াবহ সেই ঘটনায় এক পলকে ভেঙেচুরে গিয়েছিল পরিবার। অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তড়িঘড়ি রাজ্য সরকার তথা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন সিট গঠন করে তদন্তে নামে।এবার সেই ভেঙে পড়া পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগাতে এলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস, এই হত্যার তদন্তে সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দল তৈরি করে কাজ শুরু হয়েছে। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি নিশ্চিত করতে যা করার, সেটাই করবে সরকার। পাশাপাশি, পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছেন। নিহত প্রশান্তর বড় মেয়েকে বাগনান ২ বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছোট মেয়ের পড়াশোনার খরচ দেবেন বলেও জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা নিহত প্রশান্তর স্ত্রীর। নিজস্ব ছবি

শনিবার বিকেলে বাগনানে নিহত দলীয় কর্মী প্রশান্তর বাড়িতে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশান্তর মা, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন। তাঁরা সকলে ছেলের খুনিদের ফাঁসির দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাতে শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিলেন, এই হত্যার তদন্তে সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দল তৈরি করে কাজ শুরু হয়েছে। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি নিশ্চিত করতে যা করার, সেটাই করবে সরকার। পাশাপাশি, পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে নিহত প্রশান্তর বড় মেয়েকে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।ছোট মেয়ের পড়াশোনার খরচ দেবেন বলেও জানান। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একথা জানিয়েছেন নিহত প্রশান্তর স্ত্রী সোমা দে।

নিহতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য মুখ্যমন্ত্রীর। ছবি: কৌশিক দত্ত

ঘটনা ঘটেছিল গত ১৭ জুনের। বাগনান ৫ নম্বর মণ্ডলের ১৯৭ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি, বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত দে খুন হয়েছিলেন গভীর রাতে। জানা যায়, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে বাগনানের সন্তোষপুরে যান প্রশান্ত। বিজেপির দাবি, একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, সেখানেই তাঁদের উপর হামলা চালায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। লাঠি, রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রশান্ত দে-র। তাঁর খোঁজে বারবার ফোন করেন বাড়ির লোকজন। কয়েকবার ফোন না ধরলেও শেষবার ফোনে জানানো হয়, ''মার্ডার করে দিয়েছি, নিয়ে যা। তোরা কেউ এলেও খুন করে ফেলব।'' এতে অভিযোগের আঙুল ওঠে তৃণমূলের উপপ্রধান মফিজুল রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

সেদিন সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আজও প্রায় কেঁদে ফেলছেন প্রশান্তর স্ত্রী সোমা। মায়ের কথায়, ‘‘ছেলেকে একটিবার দেখতেও পেলাম না। যারা খুন করেছে, চাই তাদের ফাঁসি হোক। মুখ্যমন্ত্রীই ভরসা।'' সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের খুঁজে খুঁজে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে বলে পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement