রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: পটাশপুর থেকে কলকাতায় গিয়েছিল। আলিপুর চিড়িয়াখানায় ঢুকে পড়েছিল পটাশপুরের গৌতম গুছাইত। তিন বছর পর সেই গৌতমই ফের শিরোনামে। এবার স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। কী কারণে এত বড় পদক্ষেপ করল সে, অবশ্য তা এখনও স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে।
ফুলরানির সঙ্গে গৌতমের বিয়ে হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। দম্পতির এক সন্তান পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। কয়েক দিন ধরে গৌতম এবং ফুলরানির মধ্যে অশান্তি চলছিল। কী কারণে অশান্তি অবশ্য জানা নেই কারও। গৌতমের দাদা উত্তম বলেন, ‘‘বছর তিন আগে ভাই যখন সিংহের খাঁচায় ঢুকে পড়েছিল, সেই সময় ওর মানসিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়ে পড়েছিল। তবে পরে সুস্থও হয়ে যায়।’’
[আরও পড়ুন: স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে গোটা গ্রাম ঘুরল যুবক, প্রেমদিবসে পটাশপুরে হাড়হিম হত্যাকাণ্ড]
গৌতমের প্রতিবেশী রাখাল গুছাইতের কথায়, ‘‘বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ আচমকা গৌতমকে প্রচণ্ড চিৎকার করতে করতে ছুটতে দেখে সবাই চমকে ওঠে। তখনই দেখা যায় স্ত্রীর কাটা মাথা এক হাতে এবং অন্য হাতে ধারাল কাটারি নিয়ে গর্জন করছে ও। এলাকার কয়েক জন ওর পিছু নিই। তখন ছুটে গিয়ে বাস যাওয়ার বড় রাস্তায় চলে যায়। সেখানে নিজেই দড়ি দিয়ে চারপাশ বেঁধে একটি বেঞ্চে বসে ছিল।” স্থানীয়দের দাবি স্ত্রীর কাটা মাথা এবং কাটারি হাতে ঘোরার সময় বিড়বিড় করছিল গৌতম। সে নাকি বলতে থাকে, “কখন পুলিশ আসে আমি দেখি। এই দেশ কতটা এগিয়েছে আমি দেখতে চাই।” আপাতত শ্রীঘরে গৌতম। তবে কেন যে এমন কাজ করল সে, তা নিয়ে ধন্দে প্রায় সকলেই।
