shono
Advertisement

মাও-যৌথবাহিনী গুলির লড়াই ঝাড়খণ্ড সীমানায়, অস্থায়ী শিবির ভেঙে উদ্ধার বিস্ফোরক

মাওবাদীদের স্কোয়াডে ছিল আকাশ, অতুল, মদন, শচীন, মিতা, জবারা।
Posted: 05:58 PM Jun 24, 2018Updated: 09:24 PM Jun 24, 2018

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: মাও-যৌথবাহিনী গুলির লড়াইয়ে উত্তপ্ত বাংলার সীমানায়। অস্থায়ী মাও শিবির ভেঙে উদ্ধার হল অস্ত্রশস্ত্র-সহ বিস্ফোরক। গত শনিবার রাজ্যের বেলপাহাড়ি-বান্দোয়ান সীমানায় ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার ঘাটশিলা থানার পুডগোড়া জঙ্গলে মাওবাদীদের একটি স্কোয়াডের সঙ্গে যৌথবাহিনীর গুলির লড়াই হয়। ওইদিন রাত একটা থেকে প্রায় দু’টো পর্যন্ত প্রায় ঘন্টাখানেক গুলির লড়াই চললেও কোন হতাহতের খবর নেই। কোন মাওবাদী নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি। ঝাড়খণ্ডের ওই ঘটনাস্থল থেকে বেলপাহাড়ির কাঁকরাঝোড় তিন কিমি। বান্দোয়ানের বুড়িঝোর প্রায় সাত কিমি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাওবাদীদের সতেরো থেকে আঠারো জনের স্কোয়াডে ছিল আকাশ, অতুল, মদন, শচীন, মিতা, জবারা। ওই স্কোয়াডে সিপিআই (মাওবাদী) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ থাকায় তার আত্মসমর্পনের জল্পনার অবসান হল।

Advertisement

[হাসপাতালের বেডের উপর ভেঙে পড়ল চলন্ত ফ্যান! বরাতজোরে রক্ষা রোগীর]

কিছুদিন আগে চাউর হয়ে যায়, রাজ্য পুলিশের কাছে এই মাও শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পন করতে পারে। তবে আকাশের কোমরে চোট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দলমা পাহাড়ে তাদের এক কমরেডের সঙ্গে বাইকে করে ওঠার সময় এই মাও শীর্ষ নেতা চোট পায় বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে। তার চোট গুরুতর থাকায় উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। যা জঙ্গলে হচ্ছে না বলেই গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। শনিবার রাতের ওই ঘটনার পর ঝাড়খণ্ড-সহ লাগোয়া ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার সীমানায় তল্লাশি চালাচ্ছে সিআরপিএফ। এরাজ্যের জঙ্গলমহলের দুই জেলার একদা মাও উপদ্রুত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুরুলিয়া লাগোয়া ঝাড়খণ্ড সীমানায় অভিযানের নকশাও সাজাচ্ছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের এই যৌথবাহিনীর অভিযানে মাওবাদীদের অস্থায়ী শিবির গুঁড়িয়ে দিয়ে একটি দেশি নাইন এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দশটি ডেটোনেটর, আটটি জিলোটিন, জল ভর্তি সাতটি পাত্র ও কাপড়জামা উদ্ধার হয়েছে।

[দুর্যোগই কাল হল, মন্দারমণিতে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু ভাই-বোনের]

ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা সম্প্রতি খবর পান ঘাটশিলা থানার পুডগোড়া জঙ্গলে মাওবাদীরা অস্থায়ী শিবির করে রয়েছে। তারপরেই ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও সেখানে মোতায়েন সিআরপিএফের ১৯৩ ব্যাটালিয়ন যৌথ অপারেশনের নীল নকশা সাজায়। এই গুলির লড়াইয়ের পরই ঝাড়খণ্ড পুলিশ এরাজ্যের পুলিশকে গোটা বিষয়টি জানায়। যাতে ঝাড়খণ্ড থেকে তাড়া খেয়ে এ রাজ্যে ঢুকলে উভয়ের সাঁড়াশি আক্রমনে ওই মাও স্কোয়াড ধরা পড়ে যায়। ঝাড়খণ্ড পুলিশ গোটা ঘটনা জানানোর পরই রবিবার ভোর রাত থেকে বেলপাহাড়িতে মোতায়েন কোবরার ২০৭ নম্বর ব্যাটালিয়ন এরাজ্যের ঝাড়খণ্ড সীমানায় তল্লাশি শুরু করে। ঝাড়খণ্ডের পুডগোরা লাগোয়া ডাইনমারি, মাকুলি জঙ্গলেও তল্লাশি চলছে। গত দু’-তিন বছরে ঝাড়খণ্ডের যৌথবাহিনীর সঙ্গে আকাশের স্কোয়াডের গুলির লড়াই চললেও খুব অল্পের জন্য চার-পাঁচবার হাত ফসকে পালিয়েছে এই শীর্ষ নেতা-সহ তার সঙ্গীরা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেও এই রাজ্যের সীমানায় দলমা পাহাড় এলাকায় মাও-যৌথবাহিনী গুলির লড়াই হয়।

[বিয়ের পরেও অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক, জামাইকে খুন করল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা]

ছবি- অমিত সিং দেও

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার