নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেবের পর এবার এসআইআর শুনানিতে ডাক পড়ল জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা শ্রমদপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। ২০১৬ সাল থেকে পরপর দু'বার জঙ্গিপুর আসন থেকে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী বিধায়ককে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রমাণ করতে ডেকে পাঠানো হল নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে।
এপ্রসঙ্গে শুক্রবার দুপুরে বিধায়ক জাকির হোসেন বলেন, "আমাকে এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানোর অর্থ গণতন্ত্রের অপমান। কারণ, আমি একজন জনপ্রতিনিধি তথা ব্যবসায়ী। নিয়ম মেনে সরকারকে আয়কর দিই। আমাকে যদি এভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা সেটা বুঝতে পারছি। আমি শুনেছি আমাদের বিভিন্ন বুথে ৬০০- ৭০০ জন মানুষের শুনানিতে ডাক পড়ছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। পাশাপাশি আমার আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, এমনকি পাসপোর্ট পর্যন্ত রয়েছে। শুধু তাই নয়, আমার বাবার ও দাদুর নামে জমির দলিল রয়েছে। দশ পুরুষ ধরে আমাদের এখানে বসবাস। তারপরেও এখন আমাকে ভারতের নাগরিক হওয়ার প্রমান দিতে হবে। এটা শুধু আমার নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির লজ্জা। আমি মনে করি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে নির্বাচন কমিশন। আমার মতো একজন জনপ্রতিনিধিকে এসআইআর শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। সেই মানুষেরাও যে কত হয়রানির শিকার হচ্ছেন তা প্রতিদিন আমরা দেখতে পাচ্ছি। ধিক্কার জানাই নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে যাতে আর হয়রানি না করা হয় সেই আবেদনও রাখছি তাদের কাছে।"
রঘুনাথগঞ্জ ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গৌতম ঘোষ জানান, "বিজেপির নির্দেশে জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এবার তার থেকে বাদ পড়লেন না তৃণমূল বিধায়ক। দীর্ঘদিন ধরে জাকির হোসেনের আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট রয়েছে। এর পাশাপাশি গত ৩০ বছর ধরে তিনি কেন্দ্র সরকারকে প্রদেয় কর দিয়ে যাচ্ছেন। নিজের কাছে তাঁর সম্পত্তির শতাব্দী প্রাচীন দলিল রয়েছে। কেবলমাত্র জাকির হোসেনকে হয়রানি করার জন্য এই শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "২০০২-এর ভোটার তালিকায় জাকির হোসেনের নাম জ্বলজ্বল করছে এবং ২০২৫- এর ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে কী কারণে তৃণমূল বিধায়ককে এই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জাকির হোসেনকে 'অনৈতিকভাবে' এসআইআর-এর শুনানির নোটিস দেওয়ার জন্য আগামী রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জঙ্গিপুর শহর জুড়ে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।" কয়েক পুরুষ ধরে মুর্শিদাবাদে বসবাসকারী জঙ্গিপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন এসআইআর শুনানিতে ডাক পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।
