shono
Advertisement
Murshidabad

প্রবল বৃষ্টিতে ফরাক্কার রেল-সড়ক পথে ধস, আটকে একাধিক ট্রেন, উত্তরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ!

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুই জায়গায় ধসের জেরে চরম ভোগান্তিতে যাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ।
Published By: Kousik SinhaPosted: 10:45 AM Sep 03, 2026Updated: 10:45 AM Sep 03, 2026

একদিকে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, অন্যদিকে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জের। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় রেল লাইনে ধস। অপরদিকে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলায় ঝাড়খন্ড যাওয়ার সড়কপথ চাঁদপুর পল্টন ব্রীজের কাছেও ধস নেমেছে বলে খবর। জোড়া ধসে কার্যত বিচ্ছিন্ন মুর্শিদাবাদের উত্তর প্রান্ত। একদিকে রেল, অন্যদিকে সড়ক - দুই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাই বিপর্যস্ত। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুই জায়গায় ধসের জেরে চরম ভোগান্তিতে যাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ।

Advertisement

ধসের কারণে আপ লাইন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন আটকে পড়ে। আটকে পড়ে ১৩১৫৩ আপ শিয়ালদহ-রাধিকাপুর গৌড় এক্সপ্রেস, ১২৩৪৩ আপ শিয়ালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি দার্জিলিং মেল, ১৩১৪৫ আপ যোগবানি এক্সপ্রেস। নিউ ফরাক্কা, তিলডাঙ্গা ও মালদহ টাউনের মাঝে ট্রেনগুলি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ ফরাক্কা ব্যারেজের প্রবেশমুখে আপ লাইনে ধস নামে। নিউ ফরাক্কা স্টেশন পার করে ব্যারেজে ওঠার ঠিক আগেই আপ লাইনের একটি অংশের মাটি সরে যায়। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে প্রায় ২০ ফুট লাইন বসে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাতে পেট্রোলিংয়ে থাকা রেলের গ্যাংম্যানদের নজরে আসে ধসের কারণে লাইন বেঁকে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে লাল পতাকা দেখিয়ে ট্রেন থামানো হয় এবং মালদহ কন্ট্রোলকে খবর দেওয়া হয়। বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেলেও এর জেরে থমকে যায় পরিষেবা।

ধসের কারণে আপ লাইন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন আটকে পড়ে। আটকে পড়ে ১৩১৫৩ আপ শিয়ালদহ-রাধিকাপুর গৌড় এক্সপ্রেস, ১২৩৪৩ আপ শিয়ালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি দার্জিলিং মেল, ১৩১৪৫ আপ যোগবানি এক্সপ্রেস। নিউ ফরাক্কা, তিলডাঙ্গা ও মালদহ টাউনের মাঝে ট্রেনগুলি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। স্টেশনে জল ও খাবারের জন্য হাহাকার করেন যাত্রীরা। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ভোর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে রেল। ৬০ জনের বেশি ইঞ্জিনিয়ার ও ট্র্যাকম্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোল্ডার, পাথর ও বালি ফেলে লাইন মেরামতির কাজ শুরু করেন। আপাতত ডাউন লাইনকে সিঙ্গেল লাইন হিসাবে ব্যবহার করে ২০-২৫ কিমি গতিতে ট্রেন পার করানো হচ্ছে। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আজ বিকেলের মধ্যে আপ লাইন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

অপরদিকে, সকাল ৭টা নাগাদ দ্বিতীয় ধস নামে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলায়। ঝাড়খন্ড যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথ, চাঁদপুর পল্টন ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তায় হঠাৎ বড় ধস। প্রায় ৩০ ফুট রাস্তা হুড়মুড়িয়ে বসে যায়। এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন শত শত লরি, বাইক, টোটো ও অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করে পাকুড় ও ঝাড়খন্ডের দিকে। ধসের জেরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল। আটকে পড়েছে রোগী বোঝাই অ্যাম্বুলেন্সও। হেঁটেও পারাপার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্কুল পড়ুয়া ও নিত্যযাত্রীরা চরম দুর্ভোগে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সামশেরগঞ্জ থানা ও ডাকবাংলা সাব ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ। তারা বিকল্প গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে ছোট গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ভারী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল, ভারী বৃষ্টি ও ওভারলোডেড পাথর বোঝাই লরির চাপেই এই ধস। জোড়া ধসে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ। পূর্ত দফতর ও রেল দফতর উভয়ই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement