চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়ও জীবিত হলে মৃত! সোমবার দুপুরে বিষয়টা জানতে পেরেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আয়েশা খাতুন ডেথ সার্টিফিকেট নিতে সটান হাজির হলেন বিডিও দপ্তরে। গোটা ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় পঞ্চায়েতসদস্য থেকে প্রতিবেশী, সকলেই।
মুর্শিদাবাদের সুতির ডিহিগ্রামের ৯২ বুথের ভোটার রিয়াজুল শেখ। তাঁর দশ বছর আগে বিয়ে হয় সুতির কাশিমনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের একশাদ আলির মেয়ে আয়েশা খাতুনের সঙ্গে। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় আয়েশা খাতুনের নাম রয়েছে। এসআইআরের ফর্ম আসে আয়েশা খাতুনের। ফর্ম পূরণ করে জমাও দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর আয়েশা খাতুন জানতে পারেন তাঁকে ডিলিটেড হিসেবে দেখানো হয়েছে। আয়েশা জানান, বিষয়টি জানার পর স্হানীয় গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্য মইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর জানতে পারেন, সরকারি নথিতে নাকি তিনি মৃত! এরপরই হাজির হন বিডিও দপ্তরে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিডিও সাহেবকে বললাম আয়েশা খাতুন জীবিত। কী করে ওকে মৃত বলে ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট করা হল? সরকারিভাবে আপনারা ওকে মেরে ফেলেছেন। এবার ওর ডেথ সার্টিফিকেট দিন। বিডিও সাহেব কোনও সদুওর দিতে পারেননি। পরামর্শ দিলেন জেলার মূখ্য নির্বাচনের কাছে আবেদন করার।" মইদুল বলেন, "আমার প্রশ্ন কেন আবেদন করব? এটা লজ্জার বিষয়। আমার ৯২ বুথের ৬২৮ জনের নামে হেয়ারিংয়ের নোটিস পাঠান হয়েছিল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখলাম তিনজনের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় উঠেছে। ৬২৫ জনকে বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভারতের নাগরিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। আয়েশা খাতুনের নাম ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত না হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে।"
