shono
Advertisement
North Bengal

এবার ভূমিধসে অবরুদ্ধ মিরিকের রংভং নদীপথ, তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক কৃত্রিম হ্রদ! তলব সেনাকে

দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা রবিবার জানান, ভূমিধসের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ‘অর্জুন বাহিনী’-কে মোতায়েন করা হয়েছে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 08:50 PM Sep 06, 2026Updated: 08:50 PM Sep 06, 2026

পাহাড় জুড়ে যেন বিপদ নাচছে। সিকিমের পর এবার ভূমিধসের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল দার্জিলিং পাহাড়ের মিরিকে রংভং নদীপথ। যার জেরে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক বিশাল এক কৃত্রিম হ্রদ! এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হড়পা বান ও ভূমিধসের আশঙ্কায় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরছাড়া হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় লেপচা কমিউনিটি হলে দুর্গত পরিবারগুলিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, এসএসবি ছাড়াও তলব করা হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

Advertisement

দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিকৃষ্ণ পানিক্কর জানান, ইতিমধ্যে হ্রদ লাগোয়া এলাকা থেকে ৩৩টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে ওই এলাকায় অর্জুন বাহিনী সহ রাজ্য ও কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দল পাঠানো হয়েছে।

শনিবার থেকে মিরিক বস্তি-২-এর রংভাং খোলায় ভূমিধস চলছে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা রবিবার জানান, ভূমিধসের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ‘অর্জুন বাহিনী’-কে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পাহাড় থেকে ধস নেমে রংভং নদীতে বিশালাকার কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টির ঘটনা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। নতুন ধস নেমে যদি কোনও ভাবে হ্রদের পাড় ভেঙে যায়, তবে মিরিকের নীচের এলাকা হড়পা বানের কবলে পড়তে পারে। প্লাবিত হতে পারে নকশালবাড়ি থেকে কার্শিয়াং বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পরিস্থিতি বিপজ্জনক বুঝে জেলা প্রশাসন, জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, মহকুমাশাসক, বিডিও এবং প্রশাসনের অন্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন সাংসদ। কোনওরকম বড় বিপর্যয় এড়াতে আগাম সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অর্জুন বাহিনী ট্রাস্টের 'ডিজাস্টার টাস্ক ফোর্স'-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন। এছাড়া বিপর্যয় মোকাবিলাবাহিনী 'এসডিআরএফ' এবং 'এনডিআরএফ'-এর বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌছে গিয়েছে। তলব করা হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

ভূমিধসে মিরিকের পাহিলাগাঁও স্কুল দারা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের লাবারবোটায় লোয়ার পালজারগাঁও এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এখানে প্রায় ৩৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় ধসে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর রংভং নদীতে গিয়ে পড়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হয়ে কৃত্রিম বাঁধ বা জলাধারের মতো পরিস্থিতি হয়েছে। আচমকা হড়পা বান এসে নীচু এলাকা, রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নেওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন বাসিন্দারা। দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিকৃষ্ণ পানিক্কর জানান, ইতিমধ্যে হ্রদ লাগোয়া এলাকা থেকে ৩৩টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে ওই এলাকায় অর্জুন বাহিনী সহ রাজ্য ও কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দল পাঠানো হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞ ও ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তাঁরা খতিয়ে দেখছেন লেকের ভিতর আটকে থাকা বিপুল জলরাশি বার করে দেওয়া যায় কি না। রংভং নদী সমতলে নেমে মিশেছে বালাসন নদীতে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ জানান, কৃত্রিম হ্রদ ভেঙে বিপর্যয় ঘটবে কি না সেটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে প্রশাসন ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সেজন্য নদী সংলগ্ন বিপদজনক এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement